রিয়াধ, ১১ অক্টোবর: ‘সৌদি আরবের সাধারণ নাগরিক ও অসামরিক পরিকাঠামোর উপর বারবার হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’ রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের ভয়াবহ হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই কড়া বার্তা দিল ভারত। শনিবারের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন, আহত হয়েছেন ৩০০-রও বেশি মানুষ। আহতদের অনেককেই অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনায় সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকার বার্তা দিল নয়াদিল্লি।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বারবার হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ভারত। বিশেষ করে ১০ অক্টোবরের হামলায় প্রাণহানি, আহত হওয়ার ঘটনা এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিকে কাপুরুষোচিত আক্রমণ বলে উল্লেখ করেছে বিদেশ মন্ত্রক। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে নয়াদিল্লি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে ভারত। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক, সেই আশাও প্রকাশ করেছে বিদেশ মন্ত্রক।
উল্লেখ্য, শনিবার বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আছড়ে ফের পড়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দর খালি করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতির জেরে রিয়াধগামী একাধিক বিমান ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং বাতিল করা হয় বেশ কিছু উড়ান। রিয়াধের বাসিন্দা আহমেদ সৈয়দ জানান, হামলার সময় অন্তত দু’টি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলতে থাকা সংঘাতের জেরে এমনিতেই অগ্নিগর্ভ পশ্চিম এশিয়া। তার মধ্যেই একের পর এক হামলায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে সৌদি আরবে। দু’দিন আগেই একটি হামলায় এক পাইলট-সহ তিন সৌদি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের মদতপুষ্ট বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। গত সপ্তাহেও একাধিকবার হামলার নিশানায় এসেছিল রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আগের হামলাগুলির দায় স্বীকার করেছিল হুথি বিদ্রোহীরা। তবে শনিবারের ঘটনার বিষয়ে রাত পর্যন্ত তাদের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে এই হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পরিধি আরও বাড়তে থাকায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বিমান চলাচল নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।



