নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুর অভিযানে পাকিস্তানকে উপযুক্ত প্রত্যাঘাত করেছে নয়াদিল্লি। এবার লক্ষ্য আর এক অপারেশন। ইসলামাবাদের আর্থিক ভিত ভেঙে দিতে চরম তৎপরতা শুরু করেছে নয়াদিল্লি। পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (আইএমএফ)-এর ১৩০ কোটি ডলারের অর্থ সাহায্য বন্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে মোদি সরকার। যুক্তি স্পষ্ট, যে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা সন্ত্রাসে মদত দিতে কাজে লাগাচ্ছে পাকিস্তান। তাই অবিলম্বে ওই সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হোক। ইতিমধ্যেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে দিয়ে পাকিস্তানকে ভাতে মারার ব্যবস্থা করেছে ভারত। এরপর আইএমএফের অর্থ জোগান সফলভাবে বন্ধ করতে পারলে বিশাল জয় হবে নয়াদিল্লির। তবে রাত পর্যন্ত খবর, ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি ভারত। গভীর রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর দাবি করে, ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় টাকায় আট হাজার কোটি টাকার বেশি) ঋণ দিতে রাজি হয়েছে আইএমএফ।
ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে বারবার সন্ত্রাসে মদত ও আর্থিক সাহায্য দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে দিল্লি। এনিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কোণঠাসা হলেও পহেলগাঁওয়ের মতো ঘটনায় মদত দিয়ে চলেছে ইসলামাবাদ। আর্থিক কষ্টে চলা পাকিস্তানকে বাড়তি ঋণ দেওয়া যাবে কি না, শুক্রবার ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসেছিল আইএমএফ। ওই বৈঠকে পাকিস্তানকে বাড়তি ঋণ দেওয়ার বিরোধিতা করে ভারত। বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি বলেছিলেন, আইএমএফে আমাদের এগজিকিউটিভ রয়েছেন। তিনি ভারতের অবস্থান জানাবেন। সূত্রের খবর, সেইমতো ভারত জানায়, পাকিস্তানে যে অর্থ আসছে, তা উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। যাচ্ছে জঙ্গিদের ফান্ডে। নয়াদিল্লি আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানকে তহবিল জোগান দেওয়ার অর্থ, জঙ্গিদের সাহায্য করা। যার ফলে শুধু ভারতই নয়, গোটা বিশ্বই বিপদে পড়বে। যদিও পাকিস্তানের যুক্তি, উন্নয়ণের কাজেই এই অর্থ ব্যয় হবে। এদিন আইএমএফ অর্থ বরাদ্দ করলেও হাল ছাড়তে নারাজ নয়াদিল্লি। ইতিমধ্যেই পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর।
অর্থ ভাণ্ডারের সহায়তা ছাড়াও সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আক্রমণ জারি রেখেছে ভারত। তার জেরে ব্যাপক জলসঙ্কট চলছে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায়। জলচুক্তি স্থগিত হওয়ার পর পারমাণবিক বোমা হামলার হুঙ্কারও দিয়েছিল ইসলামাবাদ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাঙ্কের দ্বারস্থ হয়েছিল ইসলামাবাদ। তবে বিশেষ লাভ হয়নি। ভারতের সিদ্ধান্তে বিষয়ে কিছুই করার নেই বলে জানিয়ে দিলেন বিশ্বব্যাঙ্কের প্রধান অজয় বাঙ্গা। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন বাঙ্গা। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, ভারতের সিন্ধু চুক্তি বাতিলের ব্যাপারে বিশ্বব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করবে না বলে বাঙ্গা আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর কথায়, সিন্ধু চুক্তির সমস্যা নিয়ে বিশ্বব্যাঙ্ক কীভাবে হস্তক্ষেপ করবে, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন জল্পনা চলছে। কিন্তু এব্যাপারে বিশ্বব্যাঙ্কের কোনও ভূমিকাই নেই।



