লখনউ: ৮৫হাজার ৮৫৪ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ফরম। প্রতিটি ফরমেই রয়েছে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের ডিজিটাল সই। অথচ আধিকারিকদের দাবি, তাঁরা ওই ফরম তৈরিই করেননি। তাহলে ফরম কোথা থেকে এল? তাতে সই-ই বা এল কীভাবে? উত্তরপ্রদেশের এসআইআর নিয়ে সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমনই একাধিক অসংগতি সামনে এসেছে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন।
উত্তরপ্রদেশে এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল গত ৬ জানুয়ারি। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয় ১০ এপ্রিল। এর মধ্যে ছিল দাবি ও আপত্তি জানানোর পর্ব। সেই সময় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য চার লক্ষেরও বেশি ফরম ৭ জমা পড়ে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফরমগুলি বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, প্রায় ২০ শতাংশ আবেদন জমা দিয়েছেন কমিশনের নিজস্ব আধিকারিকেরা।
তবে ওই ফরমগুলি আধিকারিকেরা নিজেরা পূরণ করেননি বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী, কমিশনের ইআরওনেট সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয় ভাবে ফরমগুলি তৈরি করেছিল। তাতে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ডিজিটাল সই ছিল। ফলে ফরমগুলি নিজেরা তৈরি না করলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য সেগুলি পাঠাতে বাধ্য হন বলে আধিকারিকদের দাবি।
অভিযোগের তালিকা এখানেই শেষ নয়। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, কোনও ভোটার নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানালে তার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কমিশনের আধিকারিকদের জমা দেওয়া ৮৭,১২৭টি আবেদনের মধ্যে ৮৫,৮৫৪টিতে নাম বাদ দেওয়ার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আরও ৬২টি ফরমে কারণের জায়গায় শুধু ‘এ’, ‘এন’, ‘এইচ’ বা ‘ই’-এর মতো অক্ষর লেখা ছিল। মাত্র ১ হাজার ২১১টি ফরমে কারণ হিসাবে ‘অনুপস্থিত/স্থানান্তরিত’ উল্লেখ করা হয়েছে। বিধানসভা ভিত্তিক পরিসংখ্যান আরও চমকে দেওয়ার। উত্তরপ্রদেশের তারাবগঞ্জ ও পিলভিট বিধানসভা কেন্দ্রে একই নাম ব্যবহার করে কয়েকশো ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়েছে। ওই দুই কেন্দ্রে জমা পড়া আবেদনগুলির প্রায় ৯০ শতাংশই মুসলিম ভোটারদের বিরুদ্ধে বলে দাবি। শুধু তারাবগঞ্জেই ‘রেশমা’ নামে ১৮৮টি আপত্তি জমা পড়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একই দিনে একই বুথের ভোটারদের বিরুদ্ধে ওই আবেদনগুলি করা হয়েছিল।
তবে আবেদনকারীদের নাম ছাড়া তাঁদের পরিচয় সংক্রান্ত অন্য কোনও তথ্য নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নথিতে নেই। ফলে তাঁদের পরিচয় স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সাধারণ নাগরিকদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই বিষয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া এবং দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনও জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।



