ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: জম্মু-কাশ্মীরে বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে মানুষের সংঘাত উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাবতীয় ঘটনার পিছনে রয়েছে এশিয়াটিক ব্ল্যাক বেয়ার ও স্থানীয় চিতাবাঘ। এর জেরে প্রাণহানির পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্ৰিন ট্রাইবুনালকে দেওয়া রিপোর্টে একথা জানিয়েছে ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন ডিপার্টমেন্ট। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ভূস্বর্গে মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতের ১৭ হাজারের বেশি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৮ হাজারের বেশি ঘটনার সাক্ষী থেকেছে উত্তর কাশ্মীর। দক্ষিণ ও মধ্য কাশ্মীরে সংখ্যাটা ৬ হাজার ৬০০ ও ৬৩০।
বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে সংঘাতের জেরে কমপক্ষে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন ১ হাজারের বেশি মানুষ। আচমকা গ্ৰাম, কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ছে ভল্লুক, চিতাবাঘ। এর ফলে ফসলের পাশাপাশি গবাদি পশুর ক্ষতি হচ্ছে। জানা গিয়েছে, পাঁচ বছরে সবথেকে বেশি ঘটনা ঘটেছে শোপিয়ানে। সংখ্যাটা প্রায় ৩ হাজারের কাছাকাছি। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বন্যপ্রাণী-মানুষের সংঘাত সংক্রান্ত ১ হাজার ৭০০-র বেশি ডিস্ট্রেস কল পেয়েছে বনদপ্তর। জঙ্গলে খাবার কমে আসছে। একের পর এক জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। তাই খাবার আর আশ্রয়ের খোঁজে বাধ্য হয়েই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে বন্যপ্রাণীরা।
এহেন পরিস্থিতিতে মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীদের সংঘাত রুখতে একাধিক পদক্ষেপের কথা চিন্তাভাবনা করছে বনদপ্তর। সূত্রের খবর, জনবহুল এলাকা থেকে পশুদের দূরে রাখতে বিশেষ ধরনের সংগীতকে কাজে লাগাতে চাইছেন আধিকারিকরা। একইসঙ্গে হালকা বৈদ্যুতিক কারেন্ট থাকা কাঁটাতার, পেপার স্প্রে ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে।



