Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বয়সের ব্যালান্সে তারুণ্যের পক্ষেই জেন-জি, অভিজ্ঞতা পছন্দ প্রৌঢ়দের

জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। ১০টি আসনে এখনো পর্যন্ত প্রার্থী দিয়েছে বামেরা

বয়সের ব্যালান্সে তারুণ্যের পক্ষেই জেন-জি, অভিজ্ঞতা পছন্দ প্রৌঢ়দের
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্য দে সরকার, মালদহ: জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। ১০টি আসনে এখনো পর্যন্ত প্রার্থী দিয়েছে বামেরা। কংগ্রেস এখনও ঘোষণা করেনি। তিন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে কম বয়সের প্রার্থী সবচেয়ে বেশি বিজেপিতে। তৃণমূলের প্রার্থীরা বয়সের নিরিখে ঠিক তার পরেই। নবীন এবং অত্যন্ত প্রবীণ- দুই প্রজন্মই রয়েছে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায়। বামফ্রণ্টের প্রার্থীদের মধ্যে আবার অপেক্ষাকৃত প্রবীণ বেশি।

Advertisement

নবীন ও প্রবীণের এই  প্রজন্মগত তফাৎ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সংঘমিত্রা বোস বলেন, আমরা জেন-জিরা চাই টগবগে কমবয়সীদের হাতেই তুলে দেওয়া হোক রাজনীতির ময়দান। দেশ এবং রাজ্য চালানোর দায়িত্ব দিলে নতুন দিশা পাবে প্রশাসনও।
অন্যদিকে প্রৌঢ় ব্যাংক কর্মী মিহির ভট্টাচার্যের বক্তব্য, প্রবীণরা অভিজ্ঞ। জীবনের ওঠাপড়ার সাক্ষী তাঁরা। তাই প্রবীণরাই পরিচালনা করুন দেশ ও রাজ্য। নবীন প্রজন্ম পাশে থাকুক। 
জেলা তথা রাজ্যের অতি প্রবীণ প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম তৃণমূলের সমর মুখোপাধ্যায় (৮৪)। রতুয়ার এই তৃণমূল প্রার্থী অবশ্য প্রাণশক্তিতে এখনও পাল্লা দিতে পারেন যে কোনো তরুণের সঙ্গে।
আবার গাজোলে তৃণমূলের হয়ে লড়াই করছেন তরুণ প্রজন্মের প্রসেনজিত্‌ দাস (৩৬)। দলের যুব সংগঠনের জেলা সভাপতির দায়িত্বে থাকা প্রসেনজিত্‌ ছাত্র এবং যুব রাজনীতিতে হাত পাকিয়ে এবার নেমেছেন রাজ্য দখলের লড়াইয়ে। 
সব মিলিয়ে বয়স এবং অভিজ্ঞতার নিরিখে অত্যন্ত প্রবীণ সমরবাবু এবং নবীন প্রজন্মের প্রসেনজিত্‌ কিংবা লিপিকা বর্মণ ঘোষের (৩৮) পাশাপাশি তৃণমূলের  তালিকায় রয়েছেন মধ্য বয়সের প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (৫৬), আশিস কুণ্ডু (৫৫), কবিতা মণ্ডল (৫৫) কিংবা তাঁদের চেয়ে কিছুটা ছোট সাবিনা ইয়াসমিন (৪৮), মহম্মদ নজরুল ইসলাম (৪৬) এবং চন্দনা সরকাররা (৪৫)। দলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি অবশ্য ৬০ বছর পেরিয়েছেন। অঙ্কের হিসাবে জেলায় তৃণমূল প্রার্থীদের গড় বয়স ৫০ বছর।   
বিজেপি প্রার্থীদের সকলেরই বয়স ৬০ বছরের নীচে। তালিকায়  সিনিয়রদের মধ্যে রয়েছেন বৈষ্ণবনগরের বিজেপি প্রার্থী রাজু কর্মকার (৫৫) বা তাঁর সমবয়সী চাঁচলের বিজেপি প্রার্থী রতন দাস এবং মালতীপুরের প্রার্থী আশীষ দাস। আবার সুজাপুরের বিজেপি প্রার্থী অভিরাজ চৌধুরী কিংবা মোথাবাড়ির নিবারণ ঘোষদের বয়স ৩০ বছরের নীচে বা সামান্য বেশি। ৪০ বছর অতিক্রম করা অভিষেক সিঙ্ঘানিয়া, গৌরচন্দ্র মণ্ডলের বয়স ৪৭ বছর।  গাজোলের চিন্ময় দেব বর্মণ এবং হবিবপুরের জোয়েল মুর্মুও রয়েছেন তালিকায়। সবমিলিয়ে জেলার বিজেপি প্রার্থীদের গড় বয়স ৪৫ বছর।
অন্যদিকে, বামেদের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন ষাটোর্ধ্ব ক্ষিতীশ সরকার, অম্বর মিত্র, জহুর আলম এবং দুন্দুভি সাহারা। চাঁচলের সিপিএম প্রার্থী আনোয়ারুল হক সর্বকনিষ্ঠ (৪১)। বাকিদের বয়স ৪৭ থেকে ৫৬ বছরের মধ্যে।  জেলার ঘোষিত বামফ্রন্ট প্রার্থীদের গড় বয়স ৫৬ বছর। 
প্রার্থীদের মধ্যে প্রবীণ তৃণমূলের আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, বয়স আসলে সংখ্যা মাত্র। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের প্রাণ চাঞ্চল্যের ব্যালান্স রয়েছে আমাদের তালিকায়। 
অন্যদিকে বিজেপির নবীন প্রজন্মের প্রার্থী নিবারণ ঘোষের বক্তব্য, আমাদের দলে নরেন্দ্র মোদি কিংবা নীতিন নবীন, দুই প্রজন্মই রয়েছে। আমাদের প্রার্থী তালিকাতেও নবীনদের তুলে আনা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ