সুকান্ত বসু, কলকাতা: উত্তর কলকাতার টালা বারোয়ারির পুজো এবার ১০৬ তম বর্ষে পা দিল। এবারের ভাবনা‑‘বারোয়ারির দুর্গা বাড়ি’। মণ্ডপে ঢুকলে মনে হবে কোনো তীর্থক্ষেত্রে যাওয়া হয়েছে। দুর্গার পাশাপাশি প্যান্ডেলজুড়ে থাকছে অজস্র দেবদেবীর মূর্তি। আছে দশ মহাবিদ্যা (দুর্গার দশ রূপ) থেকে শুরু করে কালী, লক্ষ্মী সহ অন্যানা দেবীমূর্তি। সেগুলি এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের একাধিক পালপাড়া থেকে। আর আছে কয়েক হাজার মঙ্গলপ্রদীপ। হাজার হাজার বাঁশ সাজানো হয়েছে রঙিন কাপড়ে মুড়ে। আর মণ্ডপের ছাদে শোভা পাচ্ছে সুদৃশ্য নকশা ও দুর্গার প্রতিচ্ছবি।
শিল্পী প্রশান্ত পাল বলেন, ‘মণ্ডপে প্রবেশ করলে মাকে অনুভব করার অনুভূতি মিলবে। নাকে আসবে ফুল, ধূপ, ঘি, যজ্ঞের ধোঁয়ার গন্ধ। এখানে ভক্তি ও মাতৃ আরাধনাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’ উদোক্তারা জানিয়েছেন, মণ্ডপের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে আলো দিয়ে মণ্ডপসজ্জা হয়েছে। ঠাকুর দেখতে দেখতে থমকে যেতে হবে দশরূপের মূর্তি দেখে। যেন মনে হবে কোনো কালীধামে আসা হয়েছে। টালা বারোয়ারি প্রতিবছর বিভিন্ন থিমের ঠাকুর বানিয়ে চমক দেয়। উদোক্তাদের আশা, এবারও মাতৃমূর্তি দর্শন করতে দর্শনার্থীদের ঢল নামবে।
টালা পল্লির পুজো এবার ৭৮তম বর্ষে পড়ল। প্যান্ডেলে গেলে দেখা যাবে, ১০৮ পদ্মফুলের ওপর দেবীর অবস্থান। প্রতিমার রূপদান করেছেন কালাচাঁদ রুদ্র পাল। সমগ্র ভাবনা অনুভব দত্তের। এখন রাতদিন এক করে চলছে মণ্ডপসজ্জার কাজ। পুজোর সময় মণ্ডপে গেলে মনে হবে, জলাশয়ে ফুটে উঠেছে শয়ে শয়ে পদ্মফুল। চারদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে ভ্রমরের দল। শাস্ত্রমতে দুর্গা আরাধনায় সন্ধিপুজোর দিন লাগে ১০৮ পদ্মফুল। সেই রীতিকে পাথেয় করে টালা পল্লি ১০৮ পদ্মতে করেছে মূল ফোকাস। উদোক্তারা জানান, দেখলে মনে হবে সব পদ্ম যেন আসল। মণ্ডপের মধ্যে রয়েছে একটি ছোটো আকারের জলাশয়। প্রতিমা সাবেকি। থাকছে আলোর কারসাজি। সবমিলিয়ে এবছর উত্তর কলকাতার এই পুজো মণ্ডপ অন্য আর পাঁচটা বছরের তুলনায় অন্যরকম রূপ পাচ্ছে। বেশি ভিড় হবে বলে আশা উদোক্তাদের। এই দুই পুজো কমিটির দাবি, অন্যান্য বছরের মতো এবারও তারা বিভিন্ন সংস্থার সম্মান-পুরস্কার ছিনিয়ে আনবে।