নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: এক টুকরো আন্দামানে জারোয়াদের জীবনযাত্রা। কোথাও মা শুভদ্রার আদলে মায়ের মুখ আর কার্তিক-গণেশের মুখাবয়ব প্রভু জগন্নাথদেবের মতো। কোথাও আবার বিষ্ণুর দশ অবতার চাক্ষুষ করবেন দর্শনার্থীরা। প্রকৃতি ও ধর্মের মিশেলে পানিহাটির পুজোয় এবার হরেক থিমের মেলা। সঙ্গে যোগ হয়েছে বাহারি আলোর রোশনাই।
নাটাগড় ত্রিশক্তি সংঘের পুজো এবার ৫৮ তম বর্ষে পা দিয়েছে। আন্দামানের ঘন অরণ্য ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপে। বিলুপ্তপ্রায় জারোয়া জনজাতির জীবনযাপন অদ্ভুত মুন্সিয়ানায় ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী অমল হাজরা। হোগলা পাতা, বেলের খোলা, বনজ ফল, প্রকৃতির নানা উপাদান দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে আস্ত একটি দ্বীপ। সেখানে জারোয়া জনজাতির সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। শুধু মণ্ডপসজ্জার অভিনবত্ব নয়, সঙ্গে থাকছে চার মিনিটের বিশেষ অডিয়ো উপস্থাপনা। যা জারোয়াদের অন্তরের আকুতি দর্শকদের সামনে মেলে ধরবে। পুজো কমিটির সম্পাদক মানিক সাহা বলেন, আধুনিক সভ্যতার আগ্রাসনে জারোয়াদের জনসংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এই জনগোষ্ঠী আজ চূড়ান্ত সংকটে পড়েছে। উৎসবের মরশুমে তাঁদের সংকট ও জীবনগাথা মানুষের সামনে তুলে ধরতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
এবার সুবর্ণজয়ন্তীতে পা রেখেছে নাটাগড় শিবমন্দির সর্বজনীন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির দুর্গাপুজো। তারা মণ্ডপে তুলে ধরছে শাক্ত ও জগন্নাথ সংস্কৃতির মিলনধারা। তাদের থিমের নাম ‘রথ টানলে দুর্গা আসে’। মণ্ডপে মায়ের রূপ অভিনব। এখানে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতী ধরা দেবেন দেবী সুভদ্রার রূপে। অন্যদিকে কার্তিক ও গণেশ সাজবেন জগন্নাথের আদলে। সুন্দরবনের শিল্পীরা বাঁশ, চট ও বেত দিয়ে মণ্ডপ সাজাচ্ছেন। মণ্ডপের মধ্যে থাকবে জগন্নাথদেবের একাধিক মুখাবয়ব। পুজো কমিটির সম্পাদক পূর্ণেন্দু দাশগুপ্ত বলেন, হিন্দু পুরাণ ও বৈষ্ণব শাস্ত্র অনুসারে, দেবী বিন্ধ্যবাসিনী, দুর্গা ও সুভদ্রার মধ্যে একটি গভীর আধ্যাত্মিক যোগ ও একাত্মতা রয়েছে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাঁদের ভিন্ন রূপ মনে হলেও, তাঁরা আসলে একই পরমেশ্বরী মহাশক্তি বা যোগমায়ার বিভিন্ন প্রকাশ। বাংলার লোকবিশ্বাসে রথের দিন থেকেই দুর্গাপুজোর দিন গোনা শুরু হয়। বলা হয়, রথ টানলেই দুর্গোৎসবের আগমন ঘটে। সেই ভক্তির আবহকেই আমরা মহাশক্তি দুর্গার আবাহনে এক সুতোয় বেঁধেছি।
তরাপুকুর আদি সর্বজনীন দুর্গোৎসব এবার বিষ্ণুর দশাবতারকে তুলে ধরছে দর্শকদের জন্য। শিল্পী সম্রাট ভট্টাচার্য অদ্ভুত মুন্সিয়ানায় বিষ্ণুর দশ অবতারের মডেল যেমন করেছেন, তেমন মণ্ডপের দেওয়ালেও তুলে ধরা হয়েছে দশ অবতারের লীলা। মা আসছেন বাঙালিয়ানার সাজে। পুজো কমিটির কর্মকর্তা ভাস্কর রায় বলেন, ভগবান বিষ্ণুর দশ অবতারকে আমরা সব সময় চাক্ষুষ করার সুযোগ পাই না। তাই মণ্ডপে জগতের রক্ষাকর্তার সমস্ত রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পূর্ব নাটাগড় জমিদারপাড়া উন্নয়ন সমিতির পুজো ৪০ তম বর্ষে পা দিয়েছে। ২০০ বছরের প্রাচীন গোপালপুর কালী মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ।
নাটাগড় শিবমন্দির সর্বজনীনের প্রতিমা । নিজস্ব চিত্র



