Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তুলাইপাঞ্জির প্রেমে রায়গঞ্জ থেকে বীজ এনে দিনহাটায় চাষ শিক্ষকের

উত্তর দিনাজপুরে এক সফর বদলে দিল দিনহাটার এক শিক্ষকের কৃষিজীবনের ধারা। ‘চাল’-এর প্রেমে পড়ে পরীক্ষামূলক কৃষিকাজে নামলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লতিফুল কবির।

তুলাইপাঞ্জির প্রেমে রায়গঞ্জ থেকে বীজ এনে দিনহাটায় চাষ শিক্ষকের
  • ১৬ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দিনহাটা: উত্তর দিনাজপুরে এক সফর বদলে দিল দিনহাটার এক শিক্ষকের কৃষিজীবনের ধারা। ‘চাল’-এর প্রেমে পড়ে পরীক্ষামূলক কৃষিকাজে নামলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লতিফুল কবির। যাঁর পছন্দের কেন্দ্রে এখন এক বিশেষ ধানের জাত ‘তুলাইপাঞ্জি’। রায়গঞ্জ সফরে এক বন্ধুর বাড়িতে পাতে পড়া এক থালা সুগন্ধি ভাতই যেন উস্কে দিয়েছে তাঁর নতুন কৃষিস্বপ্ন। 

Advertisement

লতিফুল দিনহাটার বাসিন্দা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও কৃষিজমি তাঁর বহুদিনের সঙ্গী। জমির পরিচর্যা, বীজ বোনার ছন্দ তাঁর রক্তে মিশে। কিন্তু এবারের প্রয়াস কিছুটা অন্যরকম। এই প্রথমবার তিনি পরিচিত ধান বাদ দিয়ে হাতে নিয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি চাল তুলাইপাঞ্জির চাষ। 
কয়েক মাস আগে শিক্ষক লতিফুল ঘুরতে যান রায়গঞ্জে এক বন্ধুর বাড়িতে। সেখানেই এক দুপুরে তাঁর পাতে দেওয়া হয় তুলাইপাঞ্জি চালের ভাত। প্রথম পরিচয় হয় অসাধারণ সুগন্ধি ভাতের। স্বাদও একেবারে ভিন্ন। মনে গেঁথে যায় এই চালের অনন্য বৈশিষ্ট্য। তখনই মনে মনে ঠিক করে ফেলেন, দিনহাটার মাটিতে একবার চাষ করেই দেখবেন তুলাইপাঞ্জির। 
ফিরে এসে কথা বলেন রায়গঞ্জের সেই বন্ধুর সঙ্গে। তাঁর থেকেই সংগ্রহ করেন তুলাইপাঞ্জির বীজ। যথাযথ পদ্ধতিতে চারা তৈরি করে এবার দু’বিঘা জমি বেছে নিয়েছেন পরীক্ষামূলক চাষের জন্য। ইতিমধ্যেই রোপণ করা হয়েছে চারা। আগ্রহ নিয়ে চলছে পরিচর্যার কাজও। 
লতিফুল বলেন, রায়গঞ্জে খেয়ে এতটাই ভালো লেগেছিল যে মনে হল দিনহাটাতেও এমন চাল চাষ করা সম্ভব কি না, চেষ্টা করেই দেখি। সফল হলে আরও বেশি জমিতে চাষ করব। এলাকায় যদি এই সুগন্ধি চাল উৎপাদন করা যায়, কৃষকদের জন্য নতুন পথ খুলে যেতে পারে। 
তুলাইপাঞ্জি মূলত উত্তর দিনাজপুর, বিশেষ করে হেমতাবাদ, রায়গঞ্জ ও কালিয়াগঞ্জ মহকুমা এলাকায় পরিচিত এক ঐতিহ্যবাহী চাল। রাজ্যের বাইরেও এর চাহিদা যথেষ্ট। তবে, উৎপাদন সীমিত হওয়ায় এই চাল বাজারে খুব বেশি দেখা যায় না।
কৃষি আধিকারিকদের মতে, দিনহাটার মাটিও যথেষ্ট সম্ভাবনাময় এই জাতের ধানের জন্য। যদি পরীক্ষামূলক এই চাষ সফল হয়, ভবিষ্যতে একে কেন্দ্র করে কৃষিভিত্তিক নতুন অর্থনীতির রূপরেখা তৈরি হওয়াও অসম্ভব নয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ