নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কারো বাবা নেই। কারো বাবা মৎস্যজীবী। কেউ বা মিস্ত্রির কাজ করেন। তাঁদের সন্তানরা বাড়ি আর স্কুল করেই বেশিরভাগ দিন কাটায়। কলকাতার দুর্গাপুজোর কথা মা বা শিক্ষকদের মুখে শুনলেও কোনোদিন আসা হয়নি। বুধবার চতুর্থীতে সেই আশা পূরণ হল সায়নী প্রামাণিক, রক্তিম হালদার, সায়ন্তিকা মাঝি, ঋষি দাসদের। এদের কারো বয়স আট, তো কারও ছয়। ফলতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তিলক নস্করের উদ্যোগে এদিন চুটিয়ে ঠাকুর দেখা চলল ঠাকুরপুকুর, বেহালা, তারাতলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়।
দিনভর প্যান্ডেল হপিং করেও এক ফোঁটাও এনার্জি কমেনি তাদের। দিনের শেষে হইহই করতে করতে বাড়ি ফিরল সবাই। শহরের নামজাদা পুজো দেখে দারুণ খুশি কচিকাঁচারা। বুধবার সকাল সকাল শিশুরা স্কুলের বাইরে জড়ো হয়। প্রাতঃরাশ সেরে শুরু হয় ঠাকুর দেখা। প্রধান শিক্ষক দু’টি বাস ভাড়া করেছিলেন। বেহালা থেকে শুরু হয় পুজো পরিক্রমা। যেমন বেহালা ফ্রেন্ডস, বেহালা নতুন দল, বেহালা ২৯ পল্লি, প্রভৃতি দেখে ঠাকুরপুকুরের এসবি পার্ক সহ কয়েকটি পুজো মণ্ডপ ঘোরে খুদে পড়ুয়ারা।
মাঝে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি। এদিন তাদের মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, আলুভাজা, পটল-চিংড়ির তরকারি ও ডিমের ঝোল। প্রধান শিক্ষক বলেন, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। সারাদিন ঠাকুর দেখে ছাত্রছাত্রীরা এক সুরে জানায়, আগে গ্রামের ঠাকুর দেখেই পুজোর দিনগুলি কেটে যেত। কলকাতায় প্রথমবার এসে আনন্দ হয়েছে খুব। নিজস্ব চিত্র



