বারাসতে মুক্তো দিয়ে মা দুর্গা, থিমে প্রবীণদের একা থাকার দুঃখের কথা
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একসময় নিজের দেশ ছেড়ে আশ্রয়ের খোঁজে ভারতে চলে এসেছিলেন। ঘর তৈরি করেছিলেন বারাসতে। সেই উদ্বাস্তু পরিবারের হাত ধরে শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। এ বার বারাসতের সে বর্মা কলোনির পুজোতে উঠে এসেছে আশ্রয় হারানোর যন্ত্রণার কথা। তবে এ বার কাহিনিটা উদ্বাস্তুদের নয়। সে গল্প বৃদ্ধ বাবা-মায়ের। শেষ বয়সে নিজের বাড়িতে যাঁদের ঠাঁই অনিশ্চিত তাঁদের হয়ে প্রশ্ন তুলছে বারাসতের সুবর্ণপত্তনম সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। থিমের নাম, ‘যাব কোথায়!’ ফেলে দেওয়া সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুবর্ণপত্তনমের মণ্ডপ। বাতিল জিনিস নতুনভাবে কাজে লাগানোর ভাবনার সঙ্গে জুড়েছে বৃদ্ধ মা-বাবার অবহেলার প্রসঙ্গ। যাঁরা সন্তানকে বড়ো করতে জীবনের সঞ্চয় উজাড় করে দিয়েছেন, বয়স বাড়লে তাঁদের একাংশকে কাটাতে হয় অনিশ্চয়তায়। কারও ঠাঁই বৃদ্ধাশ্রমে, কারও দিন কাটে একা। এই সামাজিক ছবিই মণ্ডপের মাধ্যমে তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। প্রতিমাও ব্যতিক্রমী। শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার তৈরি করেছেন ৩৯ রকমের সামুদ্রিক উপকরণ ও হায়দরাবাদি মুক্তো দিয়ে দুর্গার মূর্তি। ঠাকুরের মুখ, চুল ও শরীরের সাজে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ২০ কেজি মুক্তো। রয়েছে আরও প্রায় ৫০ কেজি সামুদ্রিক উপকরণ। উপকরণের বৈচিত্র এবং শিল্পীর হাতের কাজ প্রতিমাকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। মঙ্গলবার পুজোর উদ্বোধন হয়েছে। বর্মা কলোনির পুজোর ইতিহাস আকর্ষণীয়। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মায়ানমার থেকে ভারতে চলে আসেন সেখানকার বহু বাসিন্দা। পুনর্বাসনের আবেদন জানায় ৫৫টি পরিবার। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বারাসতে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা হয়। ১৯৬৯ সালে সেই পরিবারগুলি দুর্গাপুজো শুরু করে। এ বার পুজো ৫৯তম বর্ষে পা দিয়েছে। মূলত স্বাধীনতা সংগ্রামীর হাত ধরে শুরু হয় সুবর্ণপত্তনমের পুজো। ধীরে ধীরে তার বহর বেড়েছে। পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা বাবন নন্দী জানান, এবার বাজেট ২০ লক্ষ টাকা। পুজোর দিনগুলিতে রয়েছে নানা ধরনের অনুষ্ঠান। বর্মা থেকে আসা পরিবারগুলির হাত ধরেই পুজোর সূচনা। আজও কলোনির মানুষ একসঙ্গে উৎসবে যোগ দেন। থিমের মাধ্যমে সমাজকে অন্য বার্তা দেওয়া হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement