


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: ‘স্বচ্ছ ইমেজ’ বনাম ‘উন্নয়নে অদক্ষ’! এবারও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বর্তমান বিধায়ক আনন্দময় বর্মন। তাঁর জীবনযাত্রা ও এলাকা উন্নয়ন তহবিল নিয়ে পর্যালোচনা করে স্থানীয়দের বক্তব্য, ভালো মানুষ হলেও কাজের লোক নন আনন্দময়। যারজন্য এলাকা উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৬৩.৬৩ শতাংশ অর্থই খরচ করতে পারেননি। কাজেই এবার ভোটে তাঁকে লড়তে হবে নিজের কর্মদক্ষতার প্রশ্নেই। যা তাঁর চলার পথে অন্যতম কাঁটা! যদিও আনন্দময়ের দাবি, প্রশাসনিক অসহযোগিতার মধ্যে তিনি উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে কসরতে খামতি রাখেননি। তাই এবারও তিনি হাসতে হাসতে এখানে জিতবেন।
প্রথমত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। মাটিগাড়া ব্লকের পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের মীরজংলা গ্রামের বাসিন্দা আনন্দময়। বাবা সুরেন্দ্রনাথ বর্মন বিজেপির প্রাক্তন দার্জিলিং জেলা সভাপতি। রাজ্য সম্পাদকও ছিলেন। মা শকুন্তলাদেবী ছিলেন দু’বারের পঞ্চায়েত সদস্য। একদা দলের শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন আনন্দময়। তিনি রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। পেশায় হাইস্কুলের শিক্ষক। স্থানীয়রা বলেন, উনি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। ছোট থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনীতির আঙ্গিনায় এই শিক্ষক ‘গুডবয়’ হিসাবে পরিচিত।
দ্বিতীয়টি উন্নয়নে অদক্ষ। গত বিধানসভা ভোটে রাজ্যের মধ্যে এখানে রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছিলেন আনন্দময়। তাঁর লিড ছিল ৭১ হাজার ভোট। অথচ তিনি এলাকায় নজরকাড়া উন্নয়ন করতে পারেননি বলে অভিযোগ। প্রশাসন সূত্রে খবর, পাঁচ বছরে এলাকা উন্নয়নের জন্য একজন বিধায়কের পাওয়ার কথা ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। কিন্তু তিনি খরচ করতে পারেননি ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। পাঁচটি আর্থিক বছরের মধ্যে মাত্র দু’টি আর্থিক বছরে চারটি কিস্তিতে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার প্রকল্প দাখিল করেছেন। তাও আবার কিছু প্রকল্পের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট সময়মতো দাখিল করতে পারেননি বলে অভিযোগ।
এনিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য, বিদায়ী বিধায়ক ভালো মানুষ হলেও উন্নয়নমূলক কাজের নিরিখে অদক্ষ। এবার ভোটের ময়দানে তাঁর চলার পথে এটাই অন্যতম কাঁটা।
মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের সুশান্ত ঘোষ বলেন, উন্নয়নের প্রশ্নে বিধায়ক ফ্লপ। যাবতীয় উন্নয়ন রাজ্য সরকার করেছে। বিধায়ক অবশ্য বলেন, প্রশাসনের অসহযোগিতা সত্ত্বেও ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে চারটি পঞ্চায়েতে ৮০টি সোলার লাইট, ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে গোঁসাইপুর ও মণিরাম পঞ্চায়েতে সৌরবাতি, মাটিগাড়া গালর্স হাইস্কুলে মাঠ সংস্কার, পেভার ব্লকের রাস্তা করা হয়েছে। দু’টি আর্থিক বছরে চারটি কিস্তিতে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করতে পেরেছি। এরবাইরে নকশালবাড়িতে একটি সংস্থাকে শেড বানিয়ে দেওয়া, অ্যাম্বুলেন্স প্রদান, পাথরঘাটা হাইস্কুলের হলঘর নির্মাণ, উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে ঠাকুর পঞ্চানন ভবন সংস্কার, আঠারোখাই, চম্পাসারি ও মাটিগাড়া-২ পঞ্চায়েতে পানীয় জলের প্রকল্প, মৃতদেহ বহন ভ্যান, রাস্তা ও নালা তৈরি, সোলার লাইট বসানোর প্রস্তাব পাঠানো রয়েছে। এরবাইরে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় প্রায় তিন হাজার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ প্রদান করেছি।