নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: অগ্নিনিরাপত্তার বালাই নেই। বেআইনিভাবে বাড়ানো হয়েছে আরও তিনটি তলা। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে হোটেলের আবাসিকদের বেরিয়ে আসার মতো পর্যাপ্ত সিঁড়িও নেই। এমন একাধিক গুরুতর অভিযোগে হাওড়া স্টেশন লাগোয়া দিঘা বাসস্ট্যান্ডের উল্টোদিকে আইসি বোস রোডের একটি আটতলা হোটেলে মঙ্গলবার বিকালে অভিযান চালাল হাওড়া পুরসভা। গোলাবাড়ি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে ঢুকে আবাসিকদের বের করে দেওয়া হয়। বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে হোটেল সম্পূর্ণ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে পুরসভা। এরপর হোটেলটি সিল করে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে খবর, হোটেলটির ফায়ার লাইসেন্স নেই। একই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়াই উপরের তিনটি তলা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আগুন বা অন্য কোনো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে আবাসিকদের নিরাপদে বেরিয়ে আসার জন্য যে পরিমাণ সিঁড়ি থাকা প্রয়োজন, সেই ব্যবস্থাও নেই বলে দাবি পুর আধিকারিকদের। অর্থাৎ, বিপদ ঘটলে হোটেলের ভিতরে থাকা মানুষজনকে দ্রুত বাইরে বের করে আনার পরিকাঠামো নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। পুরসভার দাবি, এই সমস্ত অনিয়মের কারণে আগেই কর্তৃপক্ষকে হোটেল খালি করার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় এদিন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি অভিযান চালানো হয়। হাওড়া পুরসভার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অলক চৌধুরী জানান, বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে আবাসিকদের ঘর খালি করতে বলা হয়েছে। এরপর হোটেলটি সিল করে দেওয়া হবে। চূড়ান্ত নির্দেশ অমান্য করলে হোটেল মালিক, ম্যানেজার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে বলেও পুরসভার তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অভিযান ঘিরে এদিন ঘটনাস্থলে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ বাহিনী মোতায়েন ছিল। যদিও কোনো মন্তব্য করতে চাননি হোটেল কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, তারাপীঠ ও কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বেআইনি হোটেল-রেস্তরাঁয় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হাওড়া শহর, বালি, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ও জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ, দমকল ও পুরসভার তরফে ধারাবাহিক অভিযান হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মে নোটিসও দেওয়া হয়েছে। তবে গোটা একটি হোটেল সিল করার ক্ষেত্রে এবারই প্রথম এমন কড়া পদক্ষেপের মুখে পড়ল হাওড়ার এই হোটেল। নিজস্ব চিত্র