


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘বর্তমান’ পত্রিকায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে লাগাতার খবরের জেরে বর্ধমান পুরসভা নড়েচড়ে বসল। শহরের কালীবাজারে একটি আটতলা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৫দিনের মধ্যে বহুতলের মালিক নিজে সেটি না ভাঙলে পুরসভা ব্যবস্থা নেবে। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, প্রতিটি বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কালীবাজারের একটি বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও কয়েকটি বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে বলা হবে। নির্দেশ না মানলে বর্ধমান পুরসভা সেগুলি ভেঙে দেবে।
বর্ধমান শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি নির্মাণ মাথা তুলেছে। অনেকে তিন থেকে চারতলার অনুমতি নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সাত-আটতলা অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়েছে। এর জেরে পুরসভার মোটা অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। বেআইনি নির্মাণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পুর কর্তৃপক্ষকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। অবশেষে পুরসভা ব্যবস্থা নিতে উঠেপড়ে লেগেছে।
শহরের বাসিন্দারা জানান, ছোট গলির মধ্যেও সাত-আটতলা বিল্ডিং তৈরি হয়েছে। কোনওভাবে সেখানে আগুন লাগলে দমকলের ইঞ্জিন ঢুকতে পারবে না। ফলে বড় বিপর্যয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নীলপুর সহ সমস্ত জায়গাতেই এই ছবি দেখা যায়। এছাড়া, বেশ কয়েকটি বহুতল পুকুর ভরাট করেও তৈরি হয়েছে। সেগুলিও পুর কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করেছে।
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করেও অনেকসময় ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। পদক্ষেপ করতে গেলে নির্মাণকারীরা উচ্চ আদালতে চলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলায় সেগুলি ভাঙা যাচ্ছে না। আদালত অনুমতি দেওয়ার পর সেগুলি ভাঙা হচ্ছে। এর আগে তিন-চারটি বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হয়ছে। একটি চক্র বাঁকা নদী ভরাটেরও চেষ্টা করছে। কয়েকমাস আগে শহরের ১০নম্বর ওয়ার্ডে নদীবক্ষ ভরাটের চেষ্টা করা হয়। পুর কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, বাঁকা নদী ভরাটের চেষ্টা হলে পদক্ষেপ করা হবে।
তবে শুধু বর্ধমান শহরই নয়, শহর লাগোয়া বিভিন্ন এলাকাতেও বেআইনি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। উল্লাস এলাকায় একটি বেআইনি নির্মাণ বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, তারপরও সেখানে লুকিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এখনও ওই নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হয়নি।
তবে বর্ধমান পুরসভা হাত গুটিয়ে থাকতে নারাজ। পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, কালীবাজার এলাকায় যে ব্যক্তি বেআইনি নির্মাণ করছিলেন, তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। ওই কাজ বন্ধ করা হয়েছে। সমস্ত বেআইনি নির্মাণকারীর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেআইনি নির্মাণ বন্ধে কাউন্সিলারদের পাশাপাশি পুরসভার আধিকারিকরাও নজর রাখবেন।