নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মার্কিন নাগরিকদের ফোন করে প্রতারণা। তার জন্য ২ হাজার বর্গফুটের ঝাঁ চকচকে অফিস ভাড়া নিয়ে খোলা হয়েছিল বেআইনি কল সেন্টার! বুধবার রাতে নিউটাউনের ইকোস্পেসে হানা দিয়ে এই চক্রের কিনারা করল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। চক্রের সঙ্গে যুক্ত সদস্য সহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৩ জন তরুণীও রয়েছে। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন ভিন রাজ্যের বাসিন্দা। এই চক্রের সঙ্গে হাওলা কারবারের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। টাকা লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার রাঠোর অমিতকুমার ভারত। তিনি বলেন, মূলত মার্কিন নাগরিকদের টার্গেট করা হতো। ওই বেআইনি কল সেন্টার থেকে ফোন করে নিজেদের নামী সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে পরিচয় দিত প্রতারকরা। টেক সাপোর্ট সহ তাঁরা সোলার প্যানেল ইনস্টলেশনের পরিষেবাও অফার করত। তারপর প্রতারণা করত। গোপন সূত্রে অভিযান চালিয়ে আমরা জানতে পেরেছি, এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগ রয়েছে। হাওলার কারবারও রয়েছে। ওই অফিস থেকে ৫৩টি ডেস্কটপ, চারটি ল্যাপটপ, ২৪টি মোবাইল ফোন সহ অন্যান্য নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ধৃতরা প্রযুক্তিগত সহায়তার নামে নামী সংস্থার প্রতিনিধি সেজে প্রতারণা করার জন্য নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করত। অফিস থেকে মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ব্যবহৃত কল স্ক্রিপ্ট, বিদেশি গ্রাহকদের তথ্য এবং কর্মীদের রেকর্ড-সহ বিভিন্ন নথি উদ্ধার করা হয়েছে। কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইল ছাড়াও রাউটার, সার্ভার, আধারকার্ড, প্যানকার্ড এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, প্রায় ৪-৫ স্তরে এই প্রতারণা চক্রটি কাজ করত। কলার টিম ফোন করত। তারপর কনভিন্স করার আলাদা টিম ছিল। টাকা স্থানান্তরের আলাদা টিম। বিদেশি ভুক্তভোগীদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।