নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃষ্টির ভ্রুকুটি কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না পুজো প্রিয় বাঙালিকে। পঞ্চমীর দিনেও বৃষ্টির জল গায়ে মেখে মণ্ডপে ঘুরতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। এতে যদিও সত্যিই বাঙালির আর কিছু যায় আসে না। তাঁরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে পুজোয় বৃষ্টি বৃষ্টি করে সবটা দেখে নিয়েছি। এখন সেসব ভয়, মন খারাপ কেটে গিয়েছে। বৃষ্টি হলেও বেরব, না হলেও বেরব।
সেই দৃশ্যই চতুর্থীর পর পঞ্চমীর দিনও দেখা গেল। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সুরুচি সংঘ, চেতলা থেকে হাতিবাগান— সর্বত্রই দু’-এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হতেই মণ্ডপের ভিতরে মাথা গুঁজেছেন তরুণ-তরুণীরা। তারপর কাদামাখা রাস্তা দিয়েই চলেছে উত্সবের উদযাপন। একদিকে যখন আকাশে কালো মেঘ, ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করেছে, তখন রাস্তায় ঠাকুর দেখার মিছিল ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বলতে বলতে ভরদুপুরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। তাতে কী হয়েছে? ব্যাগ থেকে বেরিয়ে পড়ল ছাতা। আবার যাঁদের ছাতা নেই, তাঁরা মণ্ডপের ভিতরেই অপেক্ষায় বসে থাকলেন। এদিন বিকেলের দিকে বউবাজার এলাকায় তেমনই দৃশ্য চোখে পড়ল। ভিজে রাস্তা দিয়ে সব বয়সি লোকজন হাঁটছেন ছাতা মাথায়। কিন্তু মুখে লেগে রয়েছে উত্সবের হাসি। সমস্যাও আছে। নতুন শাড়ির আঁচলখানা যে কাদায় মিশে গেল। আবার শাড়ির আঁচল কোমরে গুঁজে নিলেও স্টাইল ধরে রাখা যাবে না। তরুণীরা যখন এমন দোটানায় ভুগছেন, তখন পাঞ্জাবীর পিছনে কাদার ছিটে চোখে পড়ছে তরুণদের। ঠাকুর দেখার জন্য, প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এই তুচ্ছ বিষয়কে আপাতত উপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। সুরুচি সংঘে বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে একদল তরুণ-তরুণী বলছিলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে একটা রিল তৈরি করলে মন্দ হত না।’ কিন্তু অন্যান্যরা নতুন জামা নোংরা হয়ে যাওয়ার ভয়ে কেউই ওই প্রস্তাবে সমর্থন জানাননি। এমন সময়, আচমকা রোদ ঝলমলে আবহাওয়া। তাহলে আর অপেক্ষা কেন, ফের ঠাকুর দেখার মিছিলে পা মেলালেন সকলে।
যদিও রাসবিহারী, গড়িয়াহাট এলাকায় বৃষ্টির দাপট খুব বেশি ছিল না বলেই খবর। তবুও টিপটিপ বৃষ্টিকে এড়ানো যায়নি। পঞ্চমীতে দিনভর কালো মেঘ, বৃষ্টি আবার রোদের সঙ্গে কার্যত লুকোচুরি খেলল বাঙালি। কিন্তু সমস্ত সমস্যাকে একপাশে রেখে বাঙালির পুজো প্রেম, উত্সবে মেতে ওঠার অদম্য আগ্রহই জিতে গেল দিনের শেষে। বৃষ্টি যতই হোক, মুখ থেকে হাসি কিন্তু সরেনি। নতুন জামা, জুতোয় কাদার দাগ লাগলেও সেসব ভুলে উত্সবেই মেতে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।



