সংবাদদাতা, বোলপুর: ‘বর্তমানে’ খবর প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। বিসর্জনের এক সপ্তাহ পরেও শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী ভুবনডাঙার বাঁধের জলে ভাসছিল প্রতিমার কাঠামো। পড়ে ছিল পুজোর সামগ্রী। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের কথা বুধবার প্রকাশিত হয়েছিল পত্রিকায়। তারপরেই তৎপরতা দেখা যায়। শুক্রবার সকাল থেকে পুরসভার সাফাইকর্মীদের নামিয়ে বাঁধ পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়। দ্রুততার সঙ্গে জলাশয় থেকে সরিয়ে ফেলা হয় প্রতিমার কাঠামো ও পুজোর সামগ্রী। পুরসভার দাবি, বোলপুর ও শান্তিনিকেতন শহরের ১৬টি জলাশয় থেকেই প্রতিমার কাঠামো সরানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর বিসর্জনের পরেও ভুবনডাঙার বাঁধে একাধিক প্রতিমার কাঠামো পড়ে থাকায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। প্রতিমার গায়ে ব্যবহৃত রাসায়নিক রং জলাশয়ের জলে মিশে দূষণ ছড়াতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছিলেন। দ্রুত কাঠামো সরিয়ে জলাশয় পরিষ্কারের দাবি উঠেছিল। সেই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই পুরসভার এই উদ্যোগ। পুরসভার প্রশাসক বিকাশ নস্কর জানান, বিসর্জনের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই শহরের অধিকাংশ জলাশয় থেকে প্রতিমার কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। ভুবনডাঙার বাঁধের কাজও শুক্রবার সম্পন্ন হয়েছে।
পুরসভার এই উদ্যোগে খুশি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষও। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, এটা একটা ঐতিহ্যবাহী জলাশয়। পুরসভা তৎপরতার সঙ্গে যে পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছে তাতে আমরা খুশি।
উল্লেখ্য, ভুবনডাঙার বাঁধের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। যদিও দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানায় ঢেকে রয়েছে জলাশয়ের বিস্তীর্ণ অংশ। সংস্কারের জন্য ইউজিসি-র অর্থ বরাদ্দ হলেও তা কাজে লাগানো যায়নি বলে জানা গিয়েছে। পরে উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমিত অর্থে সংস্কারের কাজ শুরু করে বিশ্বভারতী। পাশাপাশি জলাশয়ের জমি জবরদখল ও বর্জ্য ফেলার অভিযোগও উঠেছে। এনিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতের জরিমানার মুখেও পড়তে হয়েছে বিশ্বভারতীকে। এমন পরিস্থিতিতে বিসর্জনের পর জলাশয় পরিষ্কারের উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা।



