Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে এক পয়সা দেব না, বিশ্বব্যাঙ্কের থেকে ঋণ নিক ওরা’, অকপট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

ফের বাংলাকে বঞ্চনা। এবং সেই ‘ষড়যন্ত্র’ স্পষ্ট হল স্বয়ং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বয়ানে। ইস্যু ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। এই প্রকল্প কার্যকর করতে বারবার কেন্দ্রের কাছে তদ্বির করেছে রাজ্য।

‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে এক পয়সা দেব না, বিশ্বব্যাঙ্কের থেকে ঋণ নিক ওরা’, অকপট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার  নয়াদিল্লি

Advertisement

ফের বাংলাকে বঞ্চনা। এবং সেই ‘ষড়যন্ত্র’ স্পষ্ট হল স্বয়ং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বয়ানে। ইস্যু ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। এই প্রকল্প কার্যকর করতে বারবার কেন্দ্রের কাছে তদ্বির করেছে রাজ্য। সংসদে সরব হয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ দীপক অধিকারীও (দেব)। কিন্তু বৃহস্পতিবার ‘বর্তমান’-এর প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী সি আর পাতিল পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে কোনও টাকা দেব না। আমাদের কাছে টাকা নেই। চাইলে রাজ্য সরকার বাজার থেকে টাকা ধার করুক। বিশ্বব্যাঙ্কের থেকে ধার করলে আমরা গ্যারান্টার থাকার অনুমোদন দেব। কিন্তু ঋণ শোধ করতে হবে রাজ্যকেই। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিতে পারবে না।’ তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বয়ানে মিথ্যের মুখোশ খুলে গেল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের।   
দক্ষিণবঙ্গের বন্যা রোধে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দীর্ঘদিনের পুরনো। ঘাটাল, দাসপুর, তমলুক, চন্দ্রকোণা সহ ১০টি এলাকায় প্রায় ২৫ লক্ষ বাসিন্দা বর্ষা এলেই আশঙ্কায় থাকেন। তাই বন্যা রোধে কেন্দ্র-রাজ্য ৬০:৪০ আনুপাতিক হারে এই প্রকল্পের খরচ জোগানোর কথা। কিন্তু ‘করছি, করব’ গড়িমসি করেই চলেছে কেন্দ্র। গত ১১ বছরে দেশবাসীর জন্য কী কী করেছে মোদি সরকার, এদিন ঘটা করে সেই ফিরিস্তি শোনাতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি আর পাতিল। তখনই মন্ত্রকের সচিব দেবশ্রী মুখোপাধ্যায়ের থেকে বিষয়টি জেনে নিয়ে মন্ত্রী সরাসরি বলে দেন, ‘টাকা দিতে পারব না।’ অর্থাৎ বুঝিয়ে দিলেন, বিষয় জলসম্পদ হলেও, প্রকল্পের কোনও দায় নেবে না মোদি সরকার।
কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রীর এই মন্তব্যে প্রবল ক্ষুব্ধ রাজ্যের সেচ ও জলসম্পদমন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাহলে ফের বাংলাকে বঞ্চনার কথাই শুনিয়ে দিলেন। ভোট এলেই বঙ্গ বিজেপি প্রচার করে, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের টাকা পাইয়ে দেব। তারা যে মিথ্যা বলছে, এদিন মন্ত্রীর কথাতেই তা প্রমাণিত। কারণ, শুধু প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পই নয়, রাজ্যের কান্দি, কেলেঘাই-কপালেশ্বরী নদী প্রকল্পের কাজেও কেন্দ্র ২৬৩ কোটি টাকা দেয়নি।’ টাকা না দিয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এপ্রসঙ্গে মানসবাবু বলেন, ‘বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী! তাহলে জেনে রাখুন, সুন্দরবনের আপার এবং লোয়ার ডেল্টা প্রকল্প বিশ্বব্যাঙ্কের থেকে ঋণ নিয়ে করবেন বলে ঠিক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেদারল্যান্ডস থেকে কারিগরি বিশেষজ্ঞরা এসে দেখেও গেছেন। বিশ্বব্যাঙ্কের থেকে ৭০ শতাংশ ঋণ নেওয়া হবে। তার জন্য নিয়ম মেনে কেন্দ্রের কাছে ফাইলও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই অনুমোদনও দেওয়া হচ্ছে না। আসলে মোদি সরকার বাংলাকে বঞ্চনা করবে বলেই ঠিক করে রেখেছে। মনে রাখবেন, সামনের বছরেই ভোট। মানুষ সময়মতো সবকিছুর জবাব দেবে।’           

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ