


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সল্টলেকে রাস্তার ধারে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস। রবিবার সকালে তার ভিতর থেকে উদ্ধার হল শতাধিক আধার কার্ড! সেগুলি ওই এলাকার বাসিন্দাদেরই। সব কার্ডই প্রায় নতুন। আধার কার্ডের সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে জমি সংক্রান্ত নথিপত্রের বেশ কিছু ফটোকপি। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ডাক বিভাগের মাধ্যমে আসা ওই আধার কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেগুলিই রাখা ছিল পার্টি অফিসের ভিতরে। এতদিন কেউ কিছু বলতে পারেনি। পালাবদল হতেই সবাই মুখ খুলছে। তবে এত আধার কার্ড নিয়ে তৃণমূল কী করত, তা স্পষ্ট নয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। আধার ও নথিপত্রগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
চিংড়িঘাটা সংলগ্ন সল্টলেকের বাসন্তী দেবী কলোনি এলাকায় রয়েছে তৃণমূলের ওই কার্যালয়। এলাকাটি বিধাননগর পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ মে ভোট গণনায় বিজেপি জেতার পরই এই কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এদিন স্থানীয়দের কয়েকজন তালা খোলেন। তারপরই একটি ব্রিফকেসের ভিতরে শতাধিক নতুন আধার কার্ড নজরে আসে। জমির দলিল সহ অন্যান্য নথির ফটোকপিও ছিল সেখানে। পার্টি অফিসে সবুজ আবিরও রাখাছিল। আধার কার্ড উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার বহু মানুষ সেখানে জড়ো হন। কয়েকজন প্যাকেট খুলে দেখেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড রয়েছে সেখানে। যাঁদের আধার কার্ড ডাকবিভাগের মাধ্যমে বাড়িতে পৌঁছায়নি, তেমন অনেকেও ছুটে আসেন।
এক যুবক বলেন, ‘আমার আধার কার্ড হারিয়ে গিয়েছিল। নতুনের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু বাড়িতে কার্ড এসে পৌঁছায়নি। এখন দেখছি, সেটি রয়েছে তৃণমূলের পার্টি অফিসে!’ অন্য এক যুবক বলেন, ‘তৃণমূল এভাবেই ডাকে আসা কার্ড কেড়ে নিয়ে পার্টি অফিসে রেখে দিত। তারপর নিজেদের নানা অবৈধ কাজে লাগাত সেগুলি।’ এগুলি কাজে লাগিয়ে ভোটে কারচুপির পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। এলাকার লোকজনের কাছে খবর পেয়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ ওই তৃণমূল কার্যালয়ে পৌঁছায়। সব নথিপত্র উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় তারা। স্থানীয়দের তোলা অভিযোগও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিধাননগর পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার চামেলি নস্কর মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি জানতাম না। খোঁজ নিয়ে জানলাম, সিল করা প্যাকেটে ওগুলি রাখাছিল। হয়তো কেউ ফেলে গিয়েছিল বা দিয়ে গিয়েছিল। ভোটের ব্যস্ততায় হয়তো সেগুলি প্রশাসনকে দেওয়া যায়নি। মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। আমরাও চাই, প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করুক। পার্টি অফিসে কারা তালা দিয়েছিল, কারা খুলল, তারও তদন্ত হোক।’ তৃণমূল অফিসে উদ্ধার হওয়া কার্ড।-নিজস্ব চিত্র