রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে পুজোয় ব্যাপক উৎসাহ, বুকিং সম্পূর্ণ গেস্টহাউসের
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে দুর্গাপুজো দেখার জন্য ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। মঠের সমস্ত গেস্ট হাউস বুকিং সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের পুণ্য আবির্ভাব ভূমিতে দুর্গাপুজোর জন্য মঠ চত্বর সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। মঠের ভিতরে বাঁধা হয়েছে প্যান্ডেলও। ভক্তদের প্রতিমা দর্শনের জন্য হয়েছে প্যান্ডেল। মঠের ভিতরে মন্দির সংলগ্ন অংশে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়। 

Advertisement

প্রায় প্রতিদিনই বহু ভক্ত ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কামারপুকুর মঠে আসেন। দুর্গাপুজোতে কামারপুরের পুজো দেখার জন্য ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। এবছরও দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা মঠের দুর্গাপুজো দেখতে আসছেন। মঠের পুজোয় মহাষ্টমীতে কুমারীপুজো বিশেষ আকর্ষণের। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ লোকোত্তরানন্দজি মহারাজ বলেন, রীতি অনুযায়ী কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। ষষ্ঠী থেকে পুজো শুরু হবে। হালদার পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে। চালকুমড়ো বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে। ভক্তরা প্রতি বছর পুজোয় আসেন। এবারও বহু ভক্ত আসবেন। গেস্ট হাউসগুলির বুকিং হয়ে গিয়েছে। 
মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার শ্রী শ্রী শারদীয়া মহাপুজো শুরু হবে ১৬ অক্টোবর থেকে। চলবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। ১৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৫ টায় কল্পারম্ভ হবে। সন্ধ্যায় দেবীর বোধন। মহাষ্টমীতে সকাল সাড়ে ৯ টায় কুমারী পুজো হবে। তারপর ১০ টা ২৮ মিনিট থেকে ১১ টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত সন্ধিপুজো অনুষ্ঠিত হবে। দশমীতে দেবীর প্রতিমা বিসর্জন হবে ঐতিহ্যবাহী হালদারপুকুরে।
মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক বছর বেলুড় মঠ থেকে আসেন প্রতিমা শিল্পী। এবারও একইভাবে কামারপুকুর মঠেই প্রতিমা তৈরি হয়েছে। দশভুজার সঙ্গে থাকেন লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে পুজোর দিনগুলিতে সাধুরা আগমনি গান ও কালী কীর্তনের অনুষ্ঠান করেন। ফলে মঠের দুর্গাপুজো ও ঠাকুরের দর্শনে হাজার হাজার ভক্ত ভিড় জমান। প্রসাদ গ্রহণ করতেও বহু পুণ্যার্থী আসেন। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতেও প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 
কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে বিপুল ভক্ত সমাগম হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সতর্ক থাকে পুলিশ। প্রত্যেক বছরই সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়। থাকেন মহিলা পুলিশকর্মীও। এবারও দুর্গাপুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই হুগলির পুলিশ সুপার সহ পদস্থ কর্তারা কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের নিরাপত্তার বিষয়ে খতিয়ে দেখেছেন। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, মঠের পুজো দেখতে আসা ভক্তদের যাতায়াতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেই দিকটিও নিশ্চিত করা হবে। এরজন্য রাস্তাতেও বাড়তি নজর থাকবে। 
 কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের দুর্গা প্রতিমা। -নিজস্ব চিত্র