Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

তরুণীর পেটে বিশাল সিস্ট! নদীয়ায় হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচার

বাইরে থেকে দেখলে যে কেউ মনে করতেন তিনি সন্তানসম্ভবা। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল পরীক্ষায় ধরা পড়ল চমকে দেওয়ার মতো এক সত্যি— গর্ভধারণ নয়, ২৪ বছরের তরুণীর সারা পেট জুড়ে থাবা বসিয়েছিল এক বিশালাকার সিস্ট!

তরুণীর পেটে বিশাল সিস্ট!  নদীয়ায় হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচার
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাইরে থেকে দেখলে যে কেউ মনে করতেন তিনি সন্তানসম্ভবা। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল পরীক্ষায় ধরা পড়ল চমকে দেওয়ার মতো এক সত্যি— গর্ভধারণ নয়, ২৪ বছরের তরুণীর সারা পেট জুড়ে থাবা বসিয়েছিল এক বিশালাকার সিস্ট! প্লিহা বা স্প্লিনে তৈরি হওয়া এই দানবীয় সিস্ট বের করে তরুণীকে নতুন জীবন দিলেন নদীয়া জেলার শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা।  গত শুক্রবার আড়াই ঘণ্টার অত্যন্ত জটিল ও বিরল অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন কৃষ্ণনগর গেট রোডের বাসিন্দা বহ্নিশিখা দাস।

Advertisement

এমএ পাশ করা বহ্নিশিখার পরিবারে আর্থিক টানাপোড়েন নিত্যসঙ্গী। তাঁর মা সুজাতা দাস অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। জানা গিয়েছে, প্রায় চার মাস আগে আচমকাই শারীরিক সমস্যা শুরু হয় বহ্নিশিখার। ধীরে ধীরে অস্বাভাবিকভাবে ফুলতে থাকে তাঁর পেট। প্রথমে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও সঠিকভাবে রোগ  শনাক্ত করা যায়নি।
অবশেষে দিশেহারা পরিবার বহ্নিশিখাকে নিয়ে যান শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে। সেখানকার শল্য চিকিৎসক অনির্বাণ জানার পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে ধরা পড়ে আসল সমস্যা। দেখা যায়, ওই তরুণীর প্লিহায় একটি বিশাল আকারের সিস্ট রয়েছে, যা পেটের উপর থেকে তলপেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির উপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছিল।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। প্রায় আড়াই ঘণ্টার টানা অস্ত্রোপচারে সাফল্য মেলে। চিকিৎসক অনির্বাণ জানা বলেন, সিস্টটির সাইজ অস্বাভাবিক বড়ো হয়ে গিয়েছিল এবং তা অন্যান্য অঙ্গকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। অস্ত্রোপচারের পর সিস্টটির ভিতর থেকে কয়েক লিটার তরল বের করা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে উন্নত আইসিইউ ও আনুষঙ্গিক খরচে এই অস্ত্রোপচার করাতে গেলে বিশাল অঙ্কের টাকা লাগত। কিন্তু আমাদের হাসপাতালের উন্নত আইসিইউ পরিকাঠামো এই কঠিন অস্ত্রোপচার সফল করেছে। হাসপাতাল সুপার জয়ন্ত সরকার জানান, অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ সফল হয়েছে এবং রোগী এখন বিপদমুক্ত।
মেয়ের মা সুজাতা দাস বলেন, কলকাতায় নিয়েও ডাক্তাররা কিছু বুঝতে পারছিলেন না, মেয়েটার খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কৃষ্ণনগরে আনার পরেই ডাক্তারবাবু প্লীহার সমস্যা ধরতে পারেন। এই অপারেশনের পর মেয়ে এখন পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ