Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা: খালেদার ছেলে সহ সব অভিযুক্তই খালাস

শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকেই বাংলাদেশে কুখ্যাত জঙ্গি ও অপরাধীদের জেল থেকে মুক্তি দিতে শুরু করেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার মামলাতেও বেকসুর খালাস পেল সব অভিযুক্ত।

হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা: খালেদার ছেলে সহ সব অভিযুক্তই খালাস
  • ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
ঢাকা ও নয়াদিল্লি: শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকেই বাংলাদেশে কুখ্যাত জঙ্গি ও অপরাধীদের জেল থেকে মুক্তি দিতে শুরু করেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার মামলাতেও বেকসুর খালাস পেল সব অভিযুক্ত। অভিযুক্তদের মধ্যে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরও রয়েছেন। ২০০৪ সালে ঢাকায় তত্কালীন বিরোধী নেত্রী হাসিনার সভায় গ্রেনেড হামলা হয়। তাতে মৃত্যু হয় ২৪ জনের, আহত হন প্রায় ৩০০ জন। কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে যান হাসিনা। ২০১৮ সালে ঢাকার আদালত লুত্ফুজ্জামান সহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। আর তারেক সহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল অভিযুক্তরা। রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জমান ও সৈয়দ এনায়েত হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দেয়, নিম্ন আদালতের রায় বেআইনি। তাই সব অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হচ্ছে। এদিনের রায়ের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, এতেই প্রমাণ হল খালেদা-পুত্র তারেকের বিরুদ্ধে সব মামলা আদতে ষড়যন্ত্র ছিল। হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবেদন করবে কি না, তা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ আসাদুজ্জমান জানান, সব কিছু খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে, আবেদনের পক্ষেই সওয়াল করেছেন তিনি।
Advertisement
এদিন হাইকোর্টে শুনানি চলাকালীন ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার মামলায় রায় ঘোষণার ক্ষেত্রে সব দিক খতিয়ে দেখা হয়নি। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হুজির শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এই মামলার রায় ঘোষণা হয়েছিল। অন্য একটি মামলায় হান্নানের ইতিমধ্যেই ফাঁসি হয়ে গিয়েছে। এদিন হাইকোর্ট জানায়, প্রমাণ হিসেবে কারও স্বীকারোক্তির কোনও মূল্য নেই। কারণ, চাপের মুখে সেই স্বীকারোক্তি নেওয়া হতে পারে। ২০০৪ সালের ওই হামলার পর বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতিই বদলে গিয়েছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এই ঘটনার তদন্ত করতে আসে। বাংলাদেশের গুপ্তচর সংস্থা ডিজিএফআইয়ের প্রাক্তন প্রধান নিম্ন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তত্কালীন সরকারের নির্দেশেই এই হামলায় অভিযুক্তদের সুরক্ষিত জায়গায় রাখা হয়। 
অন্যদিকে, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ধৃত সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী জামিন পাবেন কি না, তা নিয়ে আগামীকাল, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতে ফের শুনানি হবে। আদালত সূত্রে খবর, আগেই এই শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, আগের শুনানিতে চিন্ময়কৃষ্ণকে এজলাসে পেশের সময় আদালত চত্বরে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেই সময় খুন হয়েছিলেন এক আইনজীবী। ওই ঘটনার প্রতিবাদে দু’দিন আদালত বয়কট ও কর্মবিরতি পালন করেছিলেন অন্য আইনজীবীরা। এদিকে, বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে আসার সময় ইসকনের ৫৪ জন সদস্যকে আটকে দিল ইমিগ্রেশন পুলিস। বর্তমান পরিস্থিতির জেরেই তাদের ভারতে যেতে দেওয়া হয়নি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ইমিগ্রেশন পুলিস জানিয়েছে, ওই ৫৪ জনের গতিবিধি সন্দেহজনক। তাই তাঁদের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ