Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

তরুণ বয়সেও অ্যাটাক! আটকাবেন কীভাবে?

কম বয়সেও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এখন নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এমনকী, যাঁরা আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ তাঁদেরও আচমকা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

তরুণ বয়সেও অ্যাটাক! আটকাবেন কীভাবে?
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পরামর্শে মণিপাল হাসপাতাল (ঢাকুরিয়া) ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ পি কে হাজরা।

Advertisement

কম বয়সেও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এখন নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। এমনকী, যাঁরা আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ তাঁদেরও আচমকা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই বয়স কম বলে হার্টের অসুখ হবে না— এমন নিশ্চিন্তভাব ধরে রাখার কোনও কারণ নেই।
কেন কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক?
জিনগত কারণেই অনেকেরই কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিক বেশি থাকে। একে ফ্যামিলিয়াল হাইপার কোলেস্টেরোলেমিয়া বলা হয়। এতে অল্প বয়সেই ধমনীর দেওয়ালে কোলেস্টেরল জমে। পরিবারে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকলে বিষয়টিতে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সঙ্গে ধূমপান, মদ্যপান, ভাজাভুজি, কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য, ফাস্টফুড, প্রিজারভেটিভ দেওয়া খাবার খাওয়ার অভ্যেস থাকলে, অতিরিক্ত ওজন থাকলে, বিপদ আরও বাড়ে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো এখন অল্প বয়সেই সুগার ও স্থূলত্বের সমস্যা বাড়ছে। হাইপার কোলেস্টরল, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকিও অনেকগুণ বাড়ে। তাই বিপদ বাড়ছে তরুণদের। 
নেশা সর্বনাশা
কিছু মাদক হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালীর উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। রক্তনালী হঠাৎ সংকুচিত হয়ে হার্ট অ্যাটাকের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
স্ট্রেস
দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত স্ট্রেস, ঘুমের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হার্টের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবার জিমে গিয়ে ক্ষমতার তুলনায় বেশি ওজন তোলা বা পরিশ্রম ডেকে আনতে পারে বিপদ। তবে নিয়মিত, পরিমিত ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম অবশ্যই উপকারী।
‘গ্যাস’ ভেবে ভুল নয় 
বুকের অস্বস্তিকে অনেকসময়েই হজমের বা পেটের সমস্যা ভুল করেন অনেকে। তাই হঠাৎ বুকে চাপ, ব্যথা বা অস্বস্তি, অস্বাভাবিক ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব কিংবা পেটের উপরিভাগে অস্বস্তি—এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে নতুন ধরনের বা তীব্র বুকের অস্বস্তি হলে অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে যান।
ঝুঁকি কমান
ধূমপান ও নেশা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। রোজ ৪০ মিনিট হন হন করে হাঁটুন। জিমে যেতে পারেন তবে ট্রেনারের পরামর্শ অবশ্যই নিন। পর্যাপ্ত ঘুমান এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। খাদ্যতালিকায় শাকসব্জি, ফল, ডাল, সম্পূর্ণ শস্য ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, ভাজাভুজি, রেস্তোরাঁর খাবার এবং প্যাকেটজাত, সংরক্ষিত খাবার খাওয়া কমান। পরিবারে অল্প বয়সে হার্টের রোগের ইতিহাস থাকলে কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করান।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ