Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬

সরকারি নথি প্রকাশ্যে কীভাবে? কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক, দপ্তর, বিভাগ কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার মধ্যে থেকেই কি ফাঁস হয়ে যাচ্ছে গোপন খবর, ফাইল, সিদ্ধান্ত অথবা পরিকল্পনা?তাহলে কি সর্ষের মধ্যেই ভূত? সব সরকারি দপ্তরেই লুকিয়ে বিরোধীদের চর?

সরকারি নথি প্রকাশ্যে কীভাবে? কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক, দপ্তর, বিভাগ কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার মধ্যে থেকেই কি ফাঁস হয়ে যাচ্ছে গোপন খবর, ফাইল, সিদ্ধান্ত অথবা পরিকল্পনা?তাহলে কি সর্ষের মধ্যেই ভূত? সব সরকারি দপ্তরেই লুকিয়ে বিরোধীদের চর? এমনই সন্দেহের জেরে মোদি সরকারের অন্দরে সর্বস্তরে কঠোর কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সমস্ত দপ্তর ও মন্ত্রকে চলবে নজরদারি। মোবাইল-স্মার্টফোন নিয়ে সব বৈঠকে যাওয়া যাবে না। বৈঠক চলাকালীন মোবাইলে কিছু রেকর্ড অথবা কোনো মেসেজ করা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা হবে। অফিসার থেকে কর্মী, সকলের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের এই নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের উপরও একইরকম নজরদারি চলবে। এতসব কড়াকড়ির কারণ একটাই, সরকারের অন্দরে অবিশ্বাস ও সন্দেহের বাতাবরণ!

Advertisement

বিগত এক বছরে কেন্দ্রীয় ও বিজেপিশাসিত রাজ্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও দপ্তরের একের পর এক অভ্যন্তরীণ অনিয়মের সংবাদ নিয়ে তীব্র আলোড়ন হয়েছে দেশজুড়ে। মধ্যপ্রদেশে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর জমি কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের ভরতুকি কীভাবে আধিকারিকরাই পেয়ে গিয়েছেন, সেটাও ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে সংবাদপত্রে। অতি সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতান্তর, গোপল ইমেল এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে হওয়া বৈঠকের খুটিনাটি সংবাদপত্রে বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হওয়ায় চরম বিব্রত হয়েছে মোদি সরকার। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তে একের পর এক সভা, সাংবাদিক সম্মেলনে নিয়ম করে বলেন, ‘সরকারের অন্দরে কী হচ্ছে সব খবর আমরা পাই! সরকারের অন্দর থেকেই পেয়ে যাই। সরকারের নানারকম কীর্তিকলাপ যতই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হোক, সেটা সম্ভব নয়। যে যে তথ্য, নথি প্রকাশ করি, তার সবই সরকারের অন্দর থে঩কেই পেয়েছি আমরা।’ কিন্তু সব বড়ো প্রতিষ্ঠান অথবা সরকারি দপ্তরের মাথায় শাসকদলের নিজেদের পছন্দের লোকই বসানো রয়েছে। তাহলে কীভাবে সরকারি নথিপত্র এবং সংবাদ বাইরে ফাঁস হচ্ছে? কারা করছে সেই কাজ? ভিন্ন দপ্তর ও বিভাগে ছড়িয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা? এই চিন্তাই চরম উদ্বেগে ফেলেছে সরকারকে। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই সব কিছু নিয়েই প্রত্যেকটি মন্ত্রক ও দপ্তরের উপর নজরদারির কড়া নির্দেশিকা যাচ্ছে। কিন্তু তাতে কি অন্দর থেকে তথ্য ফাঁস আটকানো যাবে? উঠছে প্রশ্ন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ