Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তলিয়ে গেল ঘরবাড়ি ও ধানের গোলা খোলা আকাশের নীচে বাসিন্দারা

বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে নদীগর্ভে তলিয়ে গেল ১০-১২টি বাড়ি। বসতবাডির পাশাপাশি ধানের গোলা, পাটকাঠির গাদা ভেসে গেল।

তলিয়ে গেল ঘরবাড়ি ও ধানের গোলা খোলা আকাশের নীচে বাসিন্দারা
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রানাঘাট: বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে নদীগর্ভে তলিয়ে গেল ১০-১২টি বাড়ি। বসতবাডির পাশাপাশি ধানের গোলা, পাটকাঠির গাদা ভেসে গেল। সর্বস্ব হারিয়ে আপাতত খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন শান্তিপুরের গয়েশপুর পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দারা। বিগত বছরগুলিতে ভাগীরথীর ভাঙন হলেও নদীর এমন সর্বগ্রাসী রূপ আগে কখনও দেখেননি এলাকার বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবারও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আতঙ্ক বাড়ছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন রাত সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে আচমকা ভাগীরথীর পাড়ে ভাঙন দেখা দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একে একে বাড়িগুলি নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে থাকে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার সময় ভাঙন শুরু হওয়ায় অনেকেই আগে থেকে সতর্ক হতে পারেননি। কোনোক্রমে প্রাণ হাতে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন। আরও গভীর রাতে এভাবে ভাঙন হলে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটত বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। প্রাণে রক্ষা পেলেও বাড়ির জিনিসপত্র উদ্ধার করার সুযোগ পাননি ভাঙন কবলিত বাসিন্দারা। এদিনও ভাঙন অব্যাহত থাকায় এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন।
সর্বস্ব হারানো সুকুমার মল্লিক চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, সন্ধ্যায় আচমকা নদীর পাড় ধসতে শুরু করে। এক ঘণ্টার মধ্যে ১০-১২টি বাড়ি নদীর গর্ভে তলিয়ে যায়। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম নিজের বাড়িটা নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। ঘর থেকে জিনিসপত্র বের করার সময় পাইনি। ধানের গোলা, পাটকাঠির বোঝা, পরনের কাপড়ও ভেসে গেছে ভাগীরথীতে। এখন খোলা আকাশের নীচে বসে আছি। কোথায় যাব, কোথায় গিয়ে উঠব, কিছুই বুঝতে পারছি না। সুকুমারবাবুর মতো এলাকার আরও কয়েকটি পরিবার এখন নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নীচেই রয়েছে। সেখানেই তাঁরা সারছেন রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান শান্তিপুরের বিডিও, বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং গয়েশপুর পঞ্চায়েতের প্রধান ও অন্যান্য সদস্যরা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনিক স্তরে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ত্রাণ হিসেবে বিধায়কের পক্ষ থেকে গৃহহীন পরিবারগুলিকে ত্রিপল প্রদান করা হয়েছে। আপাতত ত্রিপল খাটিয়ে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিচ্ছেন বাসিন্দারা। বিধায়ক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
শান্তিপুরের বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাস এলাকা জানান, আমরা প্রতি মুহূর্তে ভাঙন দুর্গত দুঃস্থ মানুষদের পাশে আগেও ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকব। শান্তিপুরের বিডিও সব্যসাচী রায় জানান, ওখানে অনেকগুলি বাড়ি ভাগীরথীতে তলিয়ে গিয়েছে। ভাঙন দুর্গত সরকারিভাবে সাহায্য করা হবে।
শান্তিপুরের এই অঞ্চল প্রতিবছরই কমবেশি ভাগীরথীর ভাঙনের মুখে পড়ে। কিন্তু, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এত বড় বিপর্যয় এই এলাকায় কবে হয়েছিল মনে করতে পারছেন না এলাকাবাসী। আপাতত অস্থায়ী ত্রাণের ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পাড় বাঁধানো কাজ না হলে পুরো শ্রীরামপুর গ্রাম ভাগীরথীর গর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চোখে ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের। তাঁরা চাইছেন সরকারি উদ্যোগে অবিলম্বে ভাগীরথীর পাড় স্থায়ীভাবে নির্মাণের ব্যবস্থা করা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ