নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর খুলল হাওড়া ময়দানের রেড ক্রশ সোসাইটির অধীনস্থ শিশু হাসপাতালের দরজা। কিন্তু হাসপাতালের তালা খুললেও কাটেনি কর্মীদের দুর্ভোগ। গত মে মাস থেকে বেতন পাননি হাসপাতালের ২৭ জন কর্মী। নতুন কমিটির অনুমোদন না মেলায় বকেয়া বেতন কবে মিলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পুজোর মুখে বেতন না পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন কর্মীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনজন আরএমও সহ মোট ২৭ জন কর্মী রয়েছেন এখানে। তাঁদের মধ্যে হাসপাতালের ইনচার্জ, সুপারভাইজার, ওটি টেকনিশিয়ান, ওটি সিস্টার এবং জেনারেল ডিউটি অ্যাটেনডেন্টরাও রয়েছেন। সকলেরই গত মে মাস থেকে বেতন বকেয়া। প্রাথমিকভাবে হাসপাতালে একটি নতুন কমিটি তৈরি হলেও এখনো তার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। এমনকি, কমিটির সেক্রেটারি পদেও কাউকে নিযুক্ত করা হয়নি। ফলে কর্মীদের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া ঝুলে রয়েছে। হাসপাতালের নতুন কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ ভি কে ওঝা বলেন, ‘জেলাশাসক অনুমোদন দিলেই বকেয়া বেতন মেটানোর জন্য কমিটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে। আশা করছি, পুজোর পর বিষয়টি সমাধান হবে।’ অর্থাৎ, পুজোর আগে বকেয়া মেটার সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই হয়। হাসপাতাল খুললেও আপাতত সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা চালু হয়নি। ভিতরের অংশে সংস্কারের কাজ চলছে।
কর্মীদের কয়েকজনের কথায়, পাঁচ মাস ধরে তাঁরা বকেয়া বেতনের অপেক্ষায় রয়েছেন। পুজোর মাসেও বেতন না মেলায় পরিবার নিয়ে দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। দ্রুত বকেয়া মেটানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, গত মে মাসে হাসপাতালের কর্মীদের একাংশের মধ্যে ঝামেলার জেরে সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই ঘটনায় রাজনৈতিক মদত ছিল বলে দাবি বিজেপির। পাঁচ মাস ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে গত সপ্তাহে হাসপাতালের তালা খোলেন বালির বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় সিং। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক তথা হাসপাতাল তৈরির মূল উদ্যোক্তা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। হাসপাতালটি ফের চালু করা এবং পরিকাঠামোর উন্নয়ন কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে বৈঠক হয়। বিধায়ক সঞ্জয় সিং বলেন, হাসপাতালটি পাঁচ মাস ধরে বন্ধ থাকার বিষয়টি জেলাশাসককে জানানো হয়েছিল। কর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টিও তাঁর নজরে আনা হয়েছে।



