লখনউ, ৪ অক্টোবর: চিকিৎসক এলেন না। তাই রোগীর অস্ত্রোপচার করলেন হাসপাতালের ম্যানেজার নিজেই। তারপরই মৃত্যু হল রোগীর। উত্তরপ্রদেশের চন্দৌলির একটি বেসরকারি হাসপাতালের এই ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়ায়। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ২৪ বছর বয়সি এক নার্সিং পড়ুয়াকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, চিকিৎসকের কোনও ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা না থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে কার্যত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করছিলেন। অভিযুক্ত নার্সিং পড়ার পাশাপাশি এই হাসপাতালের ম্যানেজার হিসাবেও কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। হাসপাতালটি সিল করারও সুপারিশ করা হয়েছে।
ঘটনাটি চন্দৌলির ধনাপুর থানার মহরাইয়া গ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালের। পুলিশ জানিয়েছে, ধীন থানার লাখাইয়পুর গ্রামের বাসিন্দা সুমন নামে এক মহিলাকে জরায়ু সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের জন্য গত ১৮ অগস্ট ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন মূল অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ প্রজাপতি। অভিযোগ, প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে থেকে চিকিৎসক ডেকে এনে হাসপাতালে রোগী দেখা এবং অস্ত্রোপচার করানো হত। কিন্তু সুমনের অস্ত্রোপচারের দিন কোনও চিকিৎসক হাসপাতালে আসেননি। এরপরই অভিযোগ, ১৯ আগস্ট ইন্দ্রজিৎ নিজেই অস্ত্রোপচার করেন ওই রোগীর। অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় সুমনের। ওই রাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। তদন্তে উঠে আসে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ। পুলিশের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় ভুল রক্তনালি কেটে যায় এবং সুমনের কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর পরিবারের তরফে ধনাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তের জন্য চন্দৌলির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট চায় পুলিশ।
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের তদন্তে দেখা যায়, ঘটনার সময় হাসপাতালে কোনও চিকিৎসক বা প্যারামেডিক্যাল কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। ইন্দ্রজিৎ নিজেই রোগী ভর্তি করা থেকে শুরু করে তাঁদের চিকিৎসা করছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, ইন্দ্রজিৎ আদতে একজন বিএসসি নার্সিংয়ের ছাত্র। চিকিৎসা করার মতো কোনও স্বীকৃত ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা তাঁর ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অবশ্য তিনি ‘ডাক্তার’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ইন্দ্রজিৎ নিজেকে হাসপাতালের ম্যানেজার বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণত তিনি চিকিৎসকদের ফোন করে হাসপাতালে ডাকতেন। কিন্তু সুমনের অস্ত্রোপচারের দিন কোনও চিকিৎসক না আসায় তিনিই অস্ত্রোপচার করেন। পরে ওই মহিলার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।