


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: সাইবার অপরাধ বা জালিয়াতির টাকা ক্রিপ্টোতে বদলে ফেলছে প্রতারকরা। বেশিরভার ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্টই বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির নামে। তদন্তে নেমে টাকার ট্রেল খুঁজতে গিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছুটছে পুলিসের। টাকার হদিশই মিলছে না। সাইবার অপরাধের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার ইওয়ালেটের ফরেন্সিক অডিটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ন্যাশনাল সাইবার ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যাতে সেই সূত্র ধরেই "মানি ট্রেল" খুঁজে পাওয়া যায়।
দেশ জুড়েই সাইবার জালিয়াতদের রমরমা। প্রতিদিনই নিত্য নতুন কৌশলে টাকা হাতচ্ছে তারা। তাদের পাল্লায় পড়ে সর্বসান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের কষ্টার্জিত অথ প্রতারকরা একাধিক ই ওয়ালেট খুলে স্থানান্তর করছে। তারপর তা ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বদলে যাচ্ছে। বেশিরভাই অ্যাকাউন্টই দুবাইয়ের। সেখানে ক্রিপ্টো ভাঙিয়ে রিয়েলে রূপান্তর করে ফেলা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হিসেব বলছে ২০২০ তে সাইবার প্রতারণার টাকা ক্রিপ্টোতে গিয়েছে এমন অভিযোগের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। ২০২৪তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০টিতে। ২০২৫ এর শুরুতেই এই সংখ্যা ৫০ ছুঁয়েছে। এই তথ্য বলে দিচ্ছে কীভাবে জালিয়াতির টাকা ক্রিপ্টোতে বদল করা হচ্ছে।
সেই কারণেই নতুন কৌশল তৈরি করতে হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও পুলিস কর্তাদের। ইওয়ালেট খোলা হয়েছে যে সমস্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে সেখান থেকে পুলিস তথ্য চাইলে অসহযোগিতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা দেওয়াই হচ্ছে না। মুছে ফেলা হচ্ছে তথ্য। যাতে সাধারণভাবে তদন্তকারী এজেন্সি এর সন্ধান না পায়। সেই কারণেই ফরেন্সিক পরীক্ষার উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। যাতে কোনওভাবেই জাল কেটে বেরোতে না পারে জালিয়াত চক্র।
বিভিন্ন রাজ্যে হওয়া সাইবার প্রতারণার অভিযোগ এখন ন্যাশানাল সাইবার ক্রাইম পোর্টালে আপলোড করা বাধ্যতামূলক। এর সূত্র ধরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা ক্রিপ্টো কারেন্সির হদিশ পেতে চাইছেন। জানা যাচ্ছে , অভিযোগের পর দেখা যায় প্রতারিতের টাকা প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার পর তা আবার বিভিন্ন ই ওয়ালেটে চলে গিয়েছে। এবার সেই ইওয়াসেটগুলির ফরেন্সিক অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে সেই সূত্র ধরে জানা যায় কত টাকা কবে কোন ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। ওই ট্রেল ধরে ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্টটি যাদের নামে খোলা তাদের কাছে পৌঁছনো যায়। পাশাপাশি জোর দেওয়া হয়েছে বাজেয়াপ্ত করা কমপিউটার, মোবাইলের ফরেন্সির পরীক্ষার উপর। ইতিমধ্যেই ১৫ হাজারের বেশি কমপিউটার, মোবাইল ও ডেটা কার্ডের ফরেন্সিক পরীক্ষার পর সাইবার জালিয়াতদের টাকা কোথায় গিয়েছে তার সূত্র খুঁজে পাওয়া গিয়েছ বলে খবর।