Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

হিন্দু নির্যাতনের কথা স্বীকার করল ঢাকা, মারমুখী আইনজীবীদের চাপ, ভণ্ডুল চিন্ময়কৃষ্ণের জামিনের মামলার শুনানি

বাংলাদেশে মারমুখী আইনজীবীদের বাধায় বুধবার ভেস্তে গেল হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিনের উদ্যোগ। এদিন চট্টগ্রামের আদালতে তাঁর আগাম জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

হিন্দু নির্যাতনের কথা স্বীকার করল ঢাকা, মারমুখী আইনজীবীদের চাপ, ভণ্ডুল চিন্ময়কৃষ্ণের জামিনের মামলার শুনানি
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
ঢাকা: বাংলাদেশে মারমুখী আইনজীবীদের বাধায় বুধবার ভেস্তে গেল হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিনের উদ্যোগ। এদিন চট্টগ্রামের আদালতে তাঁর আগাম জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। কিন্তু স্থানীয় ‘প্রভাবশালী’ আইনজীবীদের চাপে বিচারক শেষ মুহূর্তে আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণে অস্বীকার করেন। ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হবে চিন্ময়কৃষ্ণকে। তবে এতদিন ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিলেও অবশেষে বাংলাদেশের মাটিতে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে মহম্মদ ইউনুস সরকার। মঙ্গলবার ঢাকা জানিয়েছে, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এমন ৮৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। যদিও তা মানতে নারাজ পর্যবেক্ষক মহল। তাদের দাবি, বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ। প্রতিবাদী হিন্দুদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। চিন্ময়কৃষ্ণকে গ্রেপ্তারের ঘটনা এর উদাহরণ বলে ব্যখ্যা করেছেন তাঁরা।
Advertisement
চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিনের আগাম শুনানির আর্জি জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন আইনজীবী রবীন্দ্র ঘোষ। আদতে ঢাকার বাসিন্দা রবীন্দ্রবাবু  সুপ্রিম কোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের সভাপতি। আগাম জামিনের আবেদনে বলা হয়েছিল, মিথ্যা ও মনগড়া মামলায় চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরাপত্তা কারণে গত ৩ ডিসেম্বর চিন্ময়কৃষ্ণের জামিনের শুনানিতে তাঁর আইনজীবী শুভাশিস শর্মা অংশ নিতে পারেননি বলেও দাবি করা হয়। পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে রবীন্দ্রবাবু বলেন, ‘এখানকার আইনজীবীরা কেউ সওয়াল করতে পারছেন না। জজ সাহেব আমার আবেদন মঞ্জুর  করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১০০ জনের মতো আইনজীবী চেঁচামেচি শুরু করে দেন।’
এদিকে, সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, কোনও ওকালতনামা ছিল না  রবীন্দ্রবাবুর কাছে। যে কারণে আবেদন নাকচ করে দেয় আদালত। সরকারপক্ষের এই বক্তব্য মানতে নারাজ চিন্ময়কৃষ্ণের আইজীবী। তাঁর সাফ কথা, ‘আমি একজন সিনিয়র আইনজীবী। নিজে স্বাক্ষর করে শুনানি করার আবেদন করেছি। কিন্তু এখানকার পরিস্থিতি এমন, তা বুঝতে পারিনি। এটা খুব দুঃখজনক পরিস্থিতি। পুলিশ ছিল বলে রক্ষা পেয়েছি।’ গত ২৫ নভেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় চিন্ময়কৃষ্ণকে। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আগামী ২ জানুয়ারি চিন্ময়কৃষ্ণের জামিনের আবেদনের শুনানি হবে বলে আগেই জানিয়েছে আদালত।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ