


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে তুষারে ঢাকল সান্দাকফু। শনিবার সকাল থেকে গোটা এলাকা ঢেকে যায় শ্বেতশুভ্র তুষারে। কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি ঢেকে থাকে তুষারে। বাড়ির চাল, গাড়ির ছাদ, গাছের পাতায় তুষার জমে যায়। তবে সান্দাকফু ঘুরতে এসে পর্যটকরা আনন্দ উপভোগ করলেও সমস্যায় পড়েন তাঁরা। প্রায় একশোজন পর্যটক আটকে পড়েন। পরবর্তীতে এসএসবি ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাঁদের নিরাপদে দার্জিলিংয়ে নামিয়ে আনা হয়। পার্বত্য এলাকার খারাপ আবহাওয়ার কারণে সান্দাকফুতে যাওয়ার ক্ষেত্রে অতি সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। সিকিমের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় একই ধরনের তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা আরো নীচে নামবে। একটা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এই এলাকার ওপর দিয়ে চলছে। এছাড়াও বঙ্গোপসাগরের উপরে বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে জলীয় বাষ্প এই এলাকাতে আসছে। দক্ষিণী হাওয়া এদিকে আসছে ও পশ্চিমি ঝঞ্ঝা এদিক থেকে যাওয়ার ফলে মিলিত হয়ে বাতাসে জলীয় বাষ্প থেকে বৃষ্টি ও বজ্রপাত সহ বৃষ্টি চলছে উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায়। আগামী ২৪ ঘণ্টা এমন আবহাওয়া চলবে বলে জানিয়েছেন সিকিম কেন্দ্রীয় আবাহওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোপীনাথ রায়। আর এরফলে সমতলে ও পাহাড়ে বৃষ্টিপাত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ের উঁচু অংশে তুষারপাত হচ্ছে। ৪৮ ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে সমতলের আবহাওয়া ঠিক হতে থাকবে। তবে আগামী মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এমন আবহাওয়ার জেরে পাহাড়-সমতলে নতুন করে ঠান্ডা কামড় দিচ্ছে। গায়ে গরম পোশাক চাপাতে হচ্ছে সকলকে। শনিবার দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহার পর্যন্ত তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করেছে। পর্যটন ব্যবসায়ী সম্রাট স্যান্যাল বলেন, সান্দাকফুতে প্রায় একশোজন পর্যটক আটকে ছিলেন। প্রশাসন সূত্রে জানতে পেরেছি, সকলকে নিরাপদে নীচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে তুষারপাত হওয়ায় এবং এমন আবহাওয়া থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে অনেকেই পাহাড়ে যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন।