Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অর্ণবের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, বিপর্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

আসানসোলের মহিশীলা পাল পাড়া। শিল্পাঞ্চলের কুমোরটুলি। ১৫ দিন পর মহালয়া চূড়ান্ত কর্মব্যস্ত এই সময়েই অকাল ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নিয়েছে শিল্পীদের ব্যস্ততা। সারি দিয়ে রাস্তার পাশে ত্রিপল মুড়ে রাখা হয়েছে প্রতিমার কাঠামো।

অর্ণবের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি, বিপর্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোলের মহিশীলা পাল পাড়া। শিল্পাঞ্চলের কুমোরটুলি। ১৫ দিন পর মহালয়া চূড়ান্ত কর্মব্যস্ত এই সময়েই অকাল ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নিয়েছে শিল্পীদের ব্যস্ততা। সারি দিয়ে রাস্তার পাশে ত্রিপল মুড়ে রাখা হয়েছে প্রতিমার কাঠামো। তারই মাঝে কেউ কেউ কোন রকমে ত্রিপলের আড়ালে প্রতিমায় মাটি লেপছেন। টানা বৃষ্টিপাতের জেরে চরম বিপাকে শিল্পীরা। মহুলয়ার দিনই প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে কয়েক হাজার পুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন হবে। ১৫ দিনের মধ্যে কী করে ঠাকুর মণ্ডপে পাঠানো হবে তা নিয়ে চিন্তায় শিল্পীরা। 

Advertisement

প্রতিমা প্রস্তুতিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাসের দাম ও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়া। শিল্পীদের দাবি, প্রতীমা অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে গ্যাস ল্যাম্প দিয়ে শুকনো করা হয়। এবার তারও উপায় নেই। একটি গ্যাস সিলিন্ডার ২৫ দিন আগে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের দামও বেশি। তাই গ্যাস ল্যাম্প দিয়েও প্রতিমা শুকনো সম্ভব হচ্ছে না। এতে সমস্যা আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। 
মহিশীলার মৃৎশিল্পী অভিজিৎ রুদ্রপাল। এবার ৩৫টি মূর্তির গড়ার বরাত পেয়েছেন। দেখা গেল অধিকাংশ মূর্তিই এখনও শুকনো হয়নি। রঙ করা শুরুই করা যায়নি। তারই মাঝে কাজ করে চলেছেন তিনি। তিনি বলেন এবার টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মূর্তিগুলি শুকনো করার মতো রোদই পাওয়া গেল না। আমার মহলয়ার দিন থেকে প্রতিমা মণ্ডপে পাঠানোর কথা। কী ভাবে কাজ শেষ করব বুঝতে পারছি না। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় আমাদের সমস্যা আরও বেড়েছে। শুধু অভিজিৎ নয় তাঁর মতোই তিরিশটি পরিবার রয়েছে যাঁদের বাড়িতে বহু সংখ্যাক ঠাকুর তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টিতে কোন রকমে কাজ করছেন শিল্পীরা। চিন্তা একটাই এরপরও যদি বৃষ্টিপাত হয় তাহলে সময় মতো প্রতিমা মণ্ডপের পাঠানোই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। 
শুধু শিল্পাঞ্চলের  কুমোরটুলিই নয় অর্ণবের ব্যাপক প্রভাবে উদ্বেগ বেড়েছে খনি অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে। তিনদিন ধরে আসানসোল, দুর্গাপুর এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অনেকেই পুজোর বাজার শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা এই বৃষ্টিপাতে বাজারে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। স্কুল, অফিস থেকেও সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ থেকে পড়ুয়ারা। তারই মাঝে টানা বৃষ্টিপাত হলেই খনি অঞ্চলে ধস নামে যা নিয়ে জেলাবাসীর উদ্বেগের অন্ত নেই। বৃহস্পতিবার জামুড়িয়া থানার নিউকেন্দা ৩ নম্বর বাউরি পাড়ায় ধস নামে। গ্রামের মনসা মন্দিরের কাছে বৃহস্পতিবার ধস নেমেছে। বিস্তীর্ণ অংশ মাটির গভীরে ঢুকে গিয়েছে। ধসটি নেমেছে গ্রামের মূল রাস্তার পাশেই। রাস্তারও কিছুটা অংশ বসে গিয়েছে। এই ধস বাড়লে আরও বড় বিপর্যয় নামতে পারে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ধসের পাশের খেলার মাঠ রয়েছে। সেখানে নাবালকরা খেলতে যায়। এনিয়েও অভিভাবকরা চিন্তিত। 
অন্যদিকে টানা বৃষ্টিপাতের জেরে রানিগঞ্জের মূল রাস্তা এনএসবি রোডে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যাতে দুর্ঘটনাও ঘটছে। ধস প্রবণ রানিগঞ্জে এনিয়েও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ