সংবাদদাতা, খড়্গপুর: পুরসভার গেট আটকে বিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তাল খড়্গপুর। বিক্ষোভরত বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ড-যুদ্ধ। পুলিশের লাঠিচার্জে জখম একাধিক বিজেপি নেতা। বিজেপি কর্মীদের মারে আহত হন একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলারও। সোমবার, পুর-চেয়ারম্যান নির্বাচনের দিনই সকাল থেকে খড়্গপুর পুরসভার গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। 'প্রদীপ সরকার চোর'- স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তপ্ত হতে শুরু করে গোটা পুরসভা চত্বর। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নামে র্যাফও।
গত সোমবার, তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার চেয়ারপার্সন কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর, এদিন চেয়ারম্যান নির্বাচনের দিন স্থির হয়েছিল। চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন ঋতব্রত-তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রদীপ সরকারই। তা বুঝতে পেরেই এদিন সকাল থেকে পুরসভার গেটে আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, প্রদীপ সরকারকে চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। নির্ধারিত সময়ে পুরসভার 'বিদ্রোহী' তৃণমূল কাউন্সিলাররা পৌঁছলে বিজেপি কর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। মহিলা তৃণমূল কাউন্সিলারদের গাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে। এরপর প্রদীপ সরকার ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলাররা পুরসভায় প্রবেশ করার চেষ্টা করলে তাঁদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনায় ফিদা হোসেন, দেবাশিস সেনগুপ্তরা জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষের নেতৃত্বে লাঠিচার্জও করা হয়। সৌরভ ঝা, শ্রী রাও, টিঙ্কু যাদব সহ একাধিক বিজেপি কর্মী জখম হন। আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরসভার সামনে যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে।



