নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলাটি আগামী ২৭ অক্টোবর ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠতে চলেছে। ওই দিন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চে মামলাটি তালিকাভুক্ত হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর মামলটির সংক্ষিপ্ত শুনানি হয়েছিল। সরকারি কর্মীদের একটি সংগঠন ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কাছে তাদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়ার আবেদন সংক্রান্ত কারণে ওই শুনানি হয়েছিল। মূল বিষয় নিয়ে কোনো শুনানি হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে আরও একটি রিপোর্ট সর্বোচ্চ আদালতে পেশ করেছে। ফলে মঙ্গলবার বিস্তারিত শুনানি হওয়ার সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন মূল মামলাকারী সংগঠন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়।
মালহোত্রা কমিটি তাদের সর্বশেষ রিপোর্টে বকেয়া ডিএ মেটানোর ব্যাপারে কিছু তথ্য-পরিসংখ্যান পেশ করেছে। কলকাতা পুরসভা এলাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা সরকারি দপ্তরের পেনশন প্রাপকদের বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে কয়েক মাস ধরে জটিলতা চলেছিল। আপাতত তাঁদের ৫০ শতাংশ বকেয়া দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। তারপরও জটিলতা কিছুদিন ছিল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ধরনের ২৫ হাজার ৯৬৬ জন পেনশন প্রাপককে বকেয়া খাতে ১৬২ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। এখনও কর্মরত সরকারি কর্মীদের ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ দেওয়ার হিসাবও দিয়েছে কমিটি।
‘গ্রান্ট ইন’ প্রতিষ্ঠানগুলির (সরকারি আর্থিক অনুদানে চলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরসভা-পঞ্চায়েত, স্বশাসিত সরকারি সংস্থা প্রভৃতি) কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশন প্রাপকরা এখনও বকেয়া ডিএ’র কিছুই পাননি। সরকারি দপ্তরের কর্মী ও পেনশন প্রাপকদের থেকে এই শ্রেণির সংখ্যা অনেক বেশি। মালহোত্রা কমিটির এই রিপোর্টে এঁদের বিষয়টি নেই। মলয়বাবু স্বীকার করেছেন, গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া ডিএ পাওয়া নিয়ে জটিলতা আছে। কারণ, এঁদের বেতন প্রদানের প্রক্রিয়া আলাদা। সুপ্রিম কোর্টে মামলায়ও এঁদের বিষয়টি সরাসরি আসেনি। তবে পরবর্তী শুনানির সময় গ্রান্ট ইন এইডের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের বিষয়টি তাঁরা তুলতে চেষ্টা করবেন। ডিসেম্বর মাসে মালহোত্রা কমিটির সঙ্গে মামলার বিভিন্ন পক্ষের যে বৈঠক হওয়ার কথা, সেখানেও এই বিষয় উত্থাপন করা হবে।



