শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: ভোটপ্রচারের শেষলগ্নে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের মেগা র্যালি ঘিরে ভিড় উপচে পড়ল। শনিবার নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের হরিপুর কিষান মান্ডি চত্বর থেকে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সারিবদ্ধ ঢাক, ছৌনাচ, রণপা সহযোগে বর্ণাঢ্য র্যালি হয়। হুডখোলা জিপে ছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। সাম্প্রতিককালের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় কংগ্রেসের এতবড় কর্মসূচি দেখা যায়নি। ওই কর্মসূচি ঘিরে নন্দীগ্রাম-চণ্ডীপুর সড়ক দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। নন্দীগ্রাম উপ নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী না থাকায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলনকে ঘিরে বিরোধী শিবির ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে র্যালি শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন কংগ্রেস প্রার্থী। মিলনবাবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে বলেন, নন্দীগ্রামে ৫০টা লাশের উপর দাঁড়িয়ে ২০১১সালে পালাবদল হয়েছিল। এখান থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে আপনি কখনো সাংসদ, কখনো ক্যাবিনেট মন্ত্রী। আবার কখনো বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। নন্দীগ্রাম আপনাকে বিখ্যাত করেছে। শেষে কি না আপনিই নন্দীগ্রামকে ভুলে গেলেন? নন্দীগ্রামের মানুষ বুঝে গিয়েছেন, আর ধোঁকাবাজি চলবে না। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বুঝতে পেরেছেন, এই নির্বাচন তাঁর কাছে অগ্নিপরীক্ষা। তাই ফিল্মি কায়দায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগের দিন আমাকে এবং প্রদেশ কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস ভট্টাচার্যকে চণ্ডীপুর থেকে চ্যাংদোলা করে গাড়িতে তুলে মন্দারমণিতে হোটেলে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে প্রার্থীপদ তোলার জন্য চাপ দেয়। আমি মুখের উপর বলেছিলাম, পারলে গুলি করুন। কিন্তু, প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে বেইমানি করতে পারব না। এদিন নন্দীগ্রাম-২ব্লকের টাকাপুরা শীতলা মন্দির প্রাঙ্গণ ও রানিচকে নির্বাচনি সভায় অংশ নেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। সঙ্গে ছিলেন পটাশপুরের বিধায়ক তথা ৫নম্বর মণ্ডলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তপন মাইতি। নির্বাচনি সভায় হাসিরানি বলেন, আপনারা কোনো প্ররোচনায় পা দেবেন না। কোনো বিভ্রান্তির মধ্যে না পড়বেন না। ৬অক্টোবর ৩নম্বর বোতামে পদ্মপ্রতীকে আমাকে ভোট দিন। সেই সঙ্গে দেড় লক্ষ ভোটে জিতিয়ে নন্দীগ্রামে আরও একবার ইতিহাস তৈরি করুন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত শক্ত করুন। তিনি আরও বলেন, আগের মতোই শুভেন্দুবাবু আপনাদের পাশে থাকবেন। আমি শুধু প্রতিনিধিত্ব করব।



