Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিল্লিতে দিদির বাড়িতে গা-ঢাকা, অবশেষে ধৃত পিলখানায় খুনে মূল অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত

ভিন রাজ্যে পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হল না প্রোমোটার শফিক খান খুনে মূল অভিযুক্ত হারুন ও রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিতের। ফেস রেকগনিশন ক্যামেরার সূত্র ধরে দিল্লিতে জামা মসজিদ এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সকালে দু’জনকে গ্রেপ্তার

দিল্লিতে দিদির বাড়িতে গা-ঢাকা, অবশেষে ধৃত পিলখানায় খুনে মূল অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত
  • ৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভিন রাজ্যে পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হল না প্রোমোটার শফিক খান খুনে মূল অভিযুক্ত হারুন ও রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিতের। ফেস রেকগনিশন ক্যামেরার সূত্র ধরে দিল্লিতে জামা মসজিদ এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সকালে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটারকে খুনের পর কলকাতা থেকে পালিয়ে তারা প্রথমে বিহারে যায়। সেখান থেকে কাটা রুটে পালিয়েছিল দিল্লিতে। ধৃত দু’জনকেই কলকাতায় নিয়ে আসছে হাওড়া সিটি পুলিশ ও সিআইডি’র টিম। আজ শুক্রবার তাদের হাওড়া আদালতে হাজির করার কথা।

Advertisement

২৫ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টে নাগাদ গুলিতে ঝাঁঝরা হন শফিক খান। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে গুলি করে আফগান যুবক হারুন ও তার সঙ্গী রোহিত। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, খুনের পর জি টি রোডে এসে একটি অ্যাপ বাইককে জোর করে থামিয়ে তাতে উঠে পড়ে দু’জন। সেখান থেকে অলিগলি ধরে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে বাইক ছেড়ে দেয়। তারপর অ্যাপ-ক্যাব করে যায় জোড়াসাঁকোয়। সেখানে মহম্মদ ওয়াকিল নামের এক বন্ধুর বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র রেখে মিনিবাসে চেপে যায় মেটিয়াবুরুজে।
মেটিয়াবুরুজের পর তাদের গতিবিধি আর নজর করতে পারেননি তদন্তকারীরা। কারণ, নিজেদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিয়ে কোনো এক আত্মীয়ের ফোন ব্যবহার করতে শুরু করে। দু’জনের ছবি পাঠানো হয় অন্যান্য রাজ্যের পুলিশের কাছে। খুনের ঘটনার পরপর হারুন যাদের ফোন করেছিল, কল লিস্ট দেখে তাদের একে ডেকে পাঠায় পুলিশ। তাদের মধ্যেই একজন সাদাব। সে গাড়ি ভাড়া দেয়। তাকে জেরা করে জানা যায়, হারুন তার কাছে গাড়ি ভাড়া চায়। বলে, কয়েকদিন রাজ্যের বাইরে থাকতে হবে। বিহারে থাকার ব্যবস্থাও করে দিতে বলে। সাদাব এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে বিহার শরিফের বাসিন্দা তথা আরজেডি নেতা তাজের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারপর রাত ১টা নাগাদ ওই গাড়ি নিয়ে রওনা দেয় হারুন ও রোহিত। যাওয়ার সময় প্রথম পক্ষের স্ত্রীর থেকে টাকা নেয় হারুন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিহার শরিফে ওই আরজেডি নেতার বাড়িতে তারা তিনদিন ছিল। সাদাবের বয়ানের ভিত্তিতেই তদন্তের অভিমুখ তৈরি হয়। বাংলা-বিহার সীমান্তের টোলে ওই গাড়ির ফুটেজ ধরা পড়ে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, বিহার শরিফেই গিয়েছে দু’জন। তবে সেখানে পুলিশের টিম পৌঁছানোর আগে দু’জন পালিয়ে যায়। হঠাৎই বখতিয়ারপুর জংশনে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাদের ছবি ধরা পড়ে। তদন্তের আরও গভীরে গিয়ে দেখা যায়, তারা ২ মার্চ দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশনে নামার পর দিল্লিগামী ট্রেন ধরেছে। দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে নেমে হারুন যায় দিদির বাড়িতে। ৫ মার্চ সকালে জামা মসজিদ এলাকায় ফেস রেকগনিশন ক্যামেরায় দু’জনের ছবি ধরা পড়তেই দিল্লি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা যায়। সঙ্গে সঙ্গে অফিসাররা সেখানে পৌঁছে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ