Bartaman Logo
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিরিয়ানিতে মেশানো হতো কাঠে লাগানোর ক্ষতিকারক কামধেনু রং

নদীয়া জেলার বিভিন্ন বিরিয়ানির দোকানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে কামধেনু নামে একটি রাসায়নিক রং, যা মূলত কাঠ বা অন্যান্য শিল্পকর্মে ব্যবহারের জন্য তৈরি

বিরিয়ানিতে মেশানো হতো কাঠে লাগানোর ক্ষতিকারক কামধেনু রং
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলার বিভিন্ন বিরিয়ানির দোকানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে কামধেনু নামে একটি রাসায়নিক রং, যা মূলত কাঠ বা অন্যান্য শিল্পকর্মে ব্যবহারের জন্য তৈরি। সেই রংই বিরিয়ানিতে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে বাসি মাংসও। উদ্ধার হওয়া সমস্ত নিষিদ্ধ রাসায়নিক ও বাসি মাংস নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। খাবার দাবারের নমুনাও সংগ্রহ করেছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। চাপড়া ও কালীগঞ্জের দেবগ্রামের দু’টি রেস্টুরেন্ট এবং নবদ্বীপের একটি সসের কারাখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেখা গিয়েছে ওই সসের কারখানায় পচা আলু আর কুমড়ো দিয়ে সস বানানো হচ্ছিল। 

Advertisement

সম্প্রতি টানা এক সপ্তাহ ধরে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর নদীয়া জেলার বিভিন্ন ব্লকের বড়ো বাজার ও দোকানগুলোতে অভিযান চালায়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অভিযান চলে। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলাজুড়ে ২৫২টি জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে।‌ দেখা গিয়েছে, ৩০ শতাংশ ব্যবসায়ীরই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেই। ১২টি দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। ৫১ রকমের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে রয়েছে সস, মশলা, চানাচুর, বেকারি প্রোডাক্ট, জলের বোতল সহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য রয়েছে। এছাড়াও ৮৪টি কেস করা হয়েছে। যে গুলোর শুনানি হবে আগামী দিনে। তার মধ্যে ২০ থেকে ২২ কেস বিরিয়ানির দোকান নিয়ে। রয়েছে।
বহু জায়গায় বিরিয়ানির দোকানের মাংস ফেলে দিয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, সেগুলো ছিল বাসি। আগের দিনের অবশিষ্ট মাংস ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয়েছিল পরের দিন ব্যবহার করার জন্য। অনেক জায়গায় পচা মাংসও পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি বিরিয়ানির গন্ধ আর রং আকর্ষণীয় করার জন্য কামধেনু রং ব্যবহার করা হয়েছে বলেও‌ অভিযোগ। 
বিশেষজ্ঞদের দাবি, কামধেনু রং ক্ষতিকর রাসায়নিক বা সিন্থেটিক রং, যা বেআইনিভাবে বিভিন্ন খাবার ও মিষ্টিতে ব্যবহার করা হয়। এই রঙে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে, যা ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগের কারণ হতে পারে। এই রং মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। 
নদীয়া জেলায় অতীতে জারে করে জীবানুযুক্ত জল‌ বিক্রির ঘটনা ঘটেছিল। একসময় জেলাজুড়ে জারে জল ভরার বিভিন্ন প্লান্ট বন্ধ করা হয়। এছাড়াও ডিইবির অভিযানে হামেশাই বিপুল পরিমাণ ভেজাল ধনে, ভেজাল কালোজিরে উদ্ধার হচ্ছে। ফুলিয়া বিখ্যাত ভেজাল ঘিয়ের জন্য। অতীতে ডালডা দিয়ে তৈরি ভেজাল ঘি উদ্ধার হয়েছে ফুলিয়া থেকে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ