ভারত-৫ : মালয়েশিয়া-১
ভারত-৫ : মালয়েশিয়া-১
নাগোয়া: জাপানের মাটিতে ফের ‘চক দে ইন্ডিয়া’। মহিলাদের পর শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট দখল হরমনপ্রীত সিংদেরও। শনিবার ফাইনালে মালয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে দুরমুশ করল পুরুষ দল। জোড়া গোলে নায়ক ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত। এশিয়ান গেমসে প্রথমবার হকির দুই বিভাগেই সোনা জয়ের সুবাদে লেখা হল ভারতীয় হকির সোনালি ইতিহাস। সেই সঙ্গে ২০২৮ ওলিম্পিকসে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করল টিম ইন্ডিয়া।
চার বছর আগে হাংঝউ এশিয়াডে জেতা স্বর্ণপদক ধরে রাখার লক্ষ্যে নাগোয়া গেমসে অভিযান শুরু করেছিলেন হরমনপ্রীত, যুগরাজরা। পুরো টুর্নামেন্টেই গোলের বন্যা বইয়ে দেয় শেষ দু’টি ওলিম্পিকসে ব্রোঞ্জজয়ীরা। সোনার লড়াইয়ে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধেও ফেভারিট হিসাবে মাঠে নেমেছিল কোচ ক্রেগ ফুলটনের ছেলেরা। দুরন্ত ছন্দ বজায় রেখে আগ্রাসী মেজাজেই শুরু করে ভারতীয় দল। ১১ মিনিটে দলকে লিড এনে দেন হরমনপ্রীত। পেনাল্টি কর্নার থেকে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। তবে তিন মিনিটের মধ্যেই পালটা আক্রমণে ম্যাচে সমতা ফেরান মালয়েশিয়ার সিলভারিয়াস শেলো। প্রথম কোয়ার্টারের খেলা শেষ হয় ১-১ গোলে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় দু’দলের। তবে তারই মধ্যে ২৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ভারতকে ফের এগিয়ে দেন যুগরাজ সিং (২-১)। বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক দেখায় ফুলটন-ব্রিগেডকে। ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি করে প্রতিপক্ষের উপর। তবে প্রতিপক্ষের রক্ষণের পরিকল্পনার কাছে বারবার ডি-বক্সের মধ্যে আটকে গিয়েছেন যুগরাজ, দিলপ্রীতরা। পেনাল্টি কর্নার নেওয়ার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট দক্ষতা দেখাতে পারেননি তাঁরা। ম্যাচে মোট ১৪টি পেনাল্টি কর্নার পেলেও গোল হয়েছে মাত্র তিনটি।
যাইহোক, ৪২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ৩-১ করেন হার্দিক সিং। এরপর ৫৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান শিলানন্দ লাকরা (৪-১)। আর ৫৭ মিনিটে মালয়েশিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন হরমনপ্রীত (৫-১)। পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলে সোনা জয় নিশ্চিত করেন ভারত অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে হরমনপ্রীত বলেন, ‘এশিয়ান গেমসের সোনা ধরে রাখতে পেরে আমরা দারুণ খুশি। আরও বেশি আনন্দ হচ্ছে, এই সাফল্যের সুবাদে ওলিম্পিকসের যোগ্যতা অর্জন করতে পেরে। পুরো আসরে আমরা অসাধারণ হকি উপহার দিয়েছি। ছেলেদের জন্য আমি গর্বিত।’