Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / এই মুহূর্তে

‘আই কনসালটেন্ট’ পরিচয় দিচ্ছেন হাঁসখালির হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক, অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে অভিযোগ দায়ের

‘আই কনসালটেন্ট’ পরিচয় দিচ্ছেন হাঁসখালির হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক, অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে অভিযোগ দায়ের
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক, অথচ তিনিই নাকি ‘আই কনসালটেন্ট’ লিখে দাপটের সঙ্গে চিকিৎসা করছেন চোখের! শুধু তাই নয়, প্রেসক্রাইব করছেন অ্যালোপ্যাথি ওষুধও। এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নদীয়ার হাঁসখালির এক বেসরকারি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে রানাঘাটের অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ব্যক্তি। হাঁসখালি থানার ময়ূরহাট এলাকার বাসিন্দা সুমন রায় ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন, হোমিওপ্যাথির ডিগ্রি ব্যবহার করে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ ‘প্রেসক্রাইব’ করা ও ‘আই কনসাল্টেন্ট’ বলে চিকিৎসা করছেন ওই ব্যক্তি। যা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতারণার সমান বলে দাবি করেছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের নাম মানস বিশ্বাস। হরিতলা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর প্রেসক্রিপশনে লেখা জেনারেল ফিজিশিয়ান এবং আই কনসালটেন্ট। ডিগ্রি হিসেবে হোমিওপ্যাথির বিএইচএমএস রয়েছে তাঁর। এছাড়াও ওই প্যাডেই ‘ডস’ বলে পৃথক একটি ডিগ্রির কথাও উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত চিকিৎসক মানস বিশ্বাস দাবি করেন, তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। কিন্তু চোখের চিকিৎসা করার জন্য তাঁর ‘ডস’ ডিগ্রি রয়েছে। যা তিনি অর্জন করেছেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব অপটোমেট্রিক্যাল সায়েন্স থেকে। এই ডিগ্রির দৌলতে শুধু চোখের চিকিৎসাই নয়, অ্যালোপ্যাথি নির্ধারিত কিছু ওষুধও নাকি লিখতে পারেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক  বলেন, আমি হোমিওপ্যাথি ডিগ্রির সূত্রে জেনারেল ফিজিশিয়ান। পরবর্তীতে আমি ‘অপথ্যালমিক সায়েন্সে’ ডিপ্লোমা অর্থাৎ ডস ডিগ্রি অর্জন করেছি। তাতে নির্দিষ্ট কিছু অ্যালোপ্যাথির ওষুধ লিখতে পারি আমি। সবটাই কাউন্টার মেডিসিন লিখেছি। এরকম ২০০টি ওষুধ রয়েছে অ্যালোপ্যাথির, যা আমি লিখতে পারি। কোনওটাই নিয়ম বহির্ভূত হয়নি। আমি আগে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে ইন্টার্নশিপ করেছি। যদিও প্রাথমিক খোঁজখবরে, ডস ডিগ্রি বা তার সাহায্যে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ লেখা যায় এরকম কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি। স্বাস্থ্যকর্তারা বলছেন, ওই চিকিৎসক কী পড়াশোনা করেছেন সেটাই আগে বিবেচনা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ‘ডস’ কী এটাও খুব ধোঁয়াশার। অ্যালোপ্যাথিতে এমন ডিগ্রি কিছু আছে বলে জানাতেও পারেননি তাঁরা। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে প্যারাসিটামল বা ওই জাতীয় কিছু অ্যালোপ্যাথি ওষুধ লেখা যায়। তবে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাঁকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক হতে হবে। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাটের অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পুষ্পেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, শনি, রবি দু’দিন ছুটি ছিল। আমি অভিযোগপত্রটি এখনও হাতে পাইনি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর করা হবে। প্রয়োজনে তদন্ত হবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ