গুয়াহাটি: মুমতাজ বেগম নামে অসমের এক বাসিন্দাকে ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করেছিল বিএসএফ। বিষয়টি নিয়ে অবশেষে পদক্ষেপ করল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। ওই মহিলা বর্তমানে কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছেন, তা জানতে বিদেশ মন্ত্রক ও অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথাও জানিয়েছেন বিচারপতিরা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালে। নগাঁও জেলার ধিংয়ের বাসিন্দা ছিলেন মুমতাজ। ওই বছরের ৬ জুন তাঁকে ‘বিদেশি’ বলে ঘোষণা করে ফরেনার্স ট্রাইবুনাল। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে সেই রায় খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। সাফ জানায়, সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিষয়টি ফের ট্রাইবুনালের কাছে ফেরত পাঠায়। মুমতাজকে ৩০ মে’র মধ্যে ট্রাইবুনালের সামনে হাজির হতে নির্দেশও দেয়। সেই অনুযায়ী, তিনি নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা দেন। হাইকোর্টের নির্দেশের কপি জমা দেন ট্রাইবুনালে। অভিযোগ, মুমতাজের আইনজীবী আদালত চত্বর থেকে চলে যেতেই ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়। এর দু’সপ্তাহের মধ্যেই, গত ৩ জুন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দক্ষিণ অসমের শ্রীভূমি জেলায়। সেখান থেকে মুমতাজকে সীমান্ত পার করিয়ে ঠেলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বিএসএফ। স্ত্রীকে ফেরাতে ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মুমতাজের স্বামী মুজাম্মাল। এদিন সেই মামলায় বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি প্রাঞ্জল দাসের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ওই মহিলাকে রায়ের কোনো কপি দেওয়া হয়নি। রায় চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও পাননি তিনি। সূত্রের খবর, হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই নয়াদিল্লির তরফে ইতিমধ্যেই ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।



