দীক্ষা দিতে গিয়ে শিষ্যাকে খারাপ স্পর্শ  গুরুদেবের, রণক্ষেত্র কানাইপুরে মৃত ১
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দীক্ষার অনুষ্ঠানে গুরুদেবের বিরুদ্ধে উঠল ‘খারাপ স্পর্শে’র অভিযোগ। তা ঘিরেই রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটল হুগলির উত্তরপাড়ার কানাইপুরে। দু’পক্ষের সংঘাতের জেরে এক ব্যক্তির ছোড়া ইটে জখম হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরেক ব্যক্তির। দু’জনেই একই গুরুর শিষ্য হওয়ায় গুরুভাই হিসাবে পরিচিত ছিলেন। সোমবার রাতের ওই ঘটনায় কানাইপুরের গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান কলোনিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরে কানাইপুর ফাঁড়ি ও উত্তরপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম শুকচাঁদ সমাজদার (৪৯)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁকে আঘাত করার অভিযোগে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা গণেশ হালদার ও তাঁর দুই আত্মীয়কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গুরুদেবকেও আটক করা হয়েছে।

Advertisement

উত্তরপাড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মঙ্গলবার শ্রীরামপুর আদালতে হাজির করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতেই শুকচাঁদের মৃত্যু হয়। তারপ স্থানীয়দের একাংশ অভিযুক্ত গণেশের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। সেই ঘটনারও পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডায়মন্ডহারবারের বাসিন্দা গোপালকৃষ্ণ গোস্বামীর ভক্তমণ্ডলী আছে। দীক্ষাদানের জন্য তিনি সোমবার কানাইপুরের কলোনিতে এসেছিলেন। সেখানেও তাঁর শিষ্যদের একাংশের বাস। রাতে কানাইপুরের গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান কলোনির এক শিষ্যের বাড়িতে দীক্ষার অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠানে গোপালকৃষ্ণের এক শিষ্যা অভিযোগ করেন, গুরুদেব তাঁকে খারাপভাবে স্পর্শ করেছেন। তাঁর আরও দাবি, অতীতে একাধিক শিষ্যারও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। তিনি তা শুনেছিলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ওই অভিযোগকে ঘিরেই গুরুদেবের শিষ্যরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। প্রথমে দু’পক্ষের বচসা ও পরে মারামারি শুরু হয়। প্রতিবেশীদের একাংশ সেই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, হাতাহাতির মধ্যেই গণেশ, গুরুদেবকে মারতে যায়। একটি আধলা ইট নিয়ে সে গুরুদেবের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করে। কিন্তু সেই ইট গিয়ে লাগে গুরুদেবের শিষ্য শুকচাঁদের মাথায়। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি এবং সংজ্ঞা হারান। স্থানীয়রাই তাঁকে দ্রুত উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। ততক্ষণে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে। এদিকে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা শুকচাঁদকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সেই সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই আরও একদফা উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ গণেশের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তারপর গণেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দুই আত্মীয়কেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গুরু গোপালকৃষ্ণকেও আটক করা হয়।