Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

গুরু ও শিষ্যরা

গুরু ও শিষ্যরা
  • ১৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজা ভট্টাচার্য: চোরবাগানের এই গলিগুলো সন্ধের পরই হঠাৎ শুনসান হয়ে যায়। পথচারী বিরল হয়ে আসে। কলকাতার অন্যান্য পথ যখন সরগরম হয়ে ওঠে, তখন এই শীর্ণ গলিতে নেমে আসে অন্ধকার আর নীরবতা। আর সেই কারণেই রামগোপাল স্পষ্ট শুনতে পেলেন, বাঁশের গেটটা খুলে কেউ ঢুকল। নিজের মনেই তিনি বললেন, ‘ওই বোধহয় মহেশ এল।’ 

Advertisement

রসিককৃষ্ণ উত্তর না দিয়ে মাথা নাড়লেন। কাঠকয়লার টুকরোটা সবে হুঁকোর টিকেতে দিয়েছেন তিনি। গাল ফুলিয়ে ফুঁ দিতে হয় এইসময়। 
তার আগেই অবশ্য মহেশচন্দ্র দরজা খুলে ঘরে ঢুকে পড়লেন। তাঁর একহাতে শালপাতার ঠোঙা, সেটা থেকে ভুরভুর করে মাছভাজার গন্ধ আসছে। অন্য হাতে একটা মোটা বই। 
রামগোপাল হেসে ফেলে বললেন, ‘এইরকম সম্মিলন একমাত্র মহেশই ঘটাতে পারে। তোপসে মাছ আর এডওয়ার্ড গিবন।’ 
মহেশ নিজেও হাসতে হাসতে বললেন, ‘কৃষ্ণমোহন আর দক্ষিণারঞ্জন আসছে। ওরা নাকি এক বোতল শেরি আনছে। আজ এখানেই খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়ব ভাবছি।’ 
হুঁকো বেশ জ্বলে উঠেছে। আরাম করে লম্বা একটা টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে রসিক বললেন, ‘কৃষ্ণমোহন যদি শেরি আনে, তাহলে অনুপান হিসেবে নির্ঘাত মথি-লিখিত সুসমাচার নিয়ে আসবে।’ 
প্রায় সমবয়সি চার বন্ধু হেসে উঠলেন হো হো করে।
....
চোরবাগানের এই বাড়িতে রসিককৃষ্ণ উঠে এসেছেন কয়েকদিন আগে। তাঁর বাড়ির লোকেদের ধারণা হয়েছিল, হিন্দু কলেজের এক তরুণ শিক্ষকের কুশিক্ষায় তিনি উচ্ছন্নে যাচ্ছেন। ছেলেকে পথে আনার জন্য রসিকের মা তাঁকে পাগলা-গুঁড়ো খাইয়ে দিয়েছিলেন। সমস্ত রাত অচেতন হয়ে পড়েছিলেন রসিক। সেই অবসরে তাঁকে হাত-পা বেঁধে কাশী নিয়ে যাওয়া হবে— এমনটাই ঠিক ছিল। তার আগেই অবশ্য রসিকের জ্ঞান ফিরে এসেছিল। কোনোভাবে বাঁধন খুলে তিনি পালিয়ে এসে এই বাসাটি ভাড়া নিয়েছেন। একাই থাকেন। ফলে বন্ধুদের পক্ষে এই ছোট্ট বাসাটা হয়ে উঠেছে আড্ডা মারার চমৎকার জায়গা। এঁদের আড্ডা অবশ্য একটু অন্যরকম। তাতে রোমের ইতিহাস থেকে হিন্দু ধর্মের বিবর্তন— কোনো কিছুই বাদ যায় না। আবার পানাহারও চলতে থাকে অবাধে। বন্ধুদের মধ্যে যাঁরা একটু অবস্থাপন্ন, তাঁরাই সেসবের জোগাড় করেন। 
হুঁকোতে আরও একটা টান দিয়ে রসিক সেটাকে বাড়িয়ে দিলেন মহেশের দিকে। এমন সময় বাইরে থেকে শোনা গেল, সাংঘাতিক জোরে কেউ এইদিকেই ছুটে আসছে। 
হিন্দু কলেজের ছাত্রদের এই দলটির শত্রুর সংখ্যা এতই বেশি যে, এক ধরনের সতর্কতা এঁদের সকলেরই অভ্যেস হয়ে গিয়েছে। ধাবমান পদধ্বনি কানে আসার সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসলেন প্রত্যেকে। এই পায়ের শব্দ শত্রুর হতে পারে, আবার অভিভাবকেরও হতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই এদের সাবধানে থাকতে হয়। 
কয়েক মুহূর্ত পরেই যেন ঝড়ের ধাক্কায় খুলে গেল জীর্ণ দরজাটা। 
‘কৃষ্ণমোহন, তুমি? তোমাকে এরকম দেখাচ্ছে কেন?’ সবার আগে কথা বলে উঠলেন রসিককৃষ্ণ। 
কৃষ্ণমোহন কোনোক্রমে বললেন, ‘স্যারের ওলাওঠা হয়েছে। অবস্থা ভালো নয়। এইমাত্র খবর পেয়ে ছুটে এলাম আমি।’ 
ঘরে বাজ পড়লেও বোধহয় এমনভাবে চমকে উঠতেন না বসে থাকা ছেলেরা। মহেশ প্রায় চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘‘অবস্থা ভালো নয় মানে? গত পরশুও ‘ইস্ট ইন্ডিয়ান’ পত্রিকার আপিসে আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে। একেবারে সুস্থ-সবল মানুষ...।’’
‘সবে পরশুই রোগে ধরেছে। খবর পাইনি। আর আজ সকাল থেকেই...।’ পাগলের মতো হাঁফাতে হাঁফাতে বললেন কৃষ্ণমোহন, ‘এমন অবস্থা, চিকিৎসকরা পর্যন্ত স্যারকে দেখতে চাইছেন না। ছোঁয়াচে রোগ। এদিকে এই রোগে বড্ড সেবা লাগে, সে তো জানোই।’
‘তেমন কেউও তো স্যারের বাড়িতে নেই! শুধু মা আর বোন!’ বলে উঠলেন রামগোপাল, ‘মানে একেবারে বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছেন স্যার? বিনা শুশ্রূষায়?’ 
‘না না! দক্ষিণা রয়েছে স্যারের কাছে। তাকে রেখেই আমি এখানে ছুটে এসেছি তোমাদের খবর দেওয়ার জন্য,’ বললেন কৃষ্ণমোহন। 
কয়েক মুহূর্তের জন্য পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইলেন এই যুবকেরা। এদের অবশ্য যুবক বললেও বেশ খানিকটা বাড়িয়ে বলা হয়। একজনেরও বয়স এখনও কুড়ি পেরয়নি। কিন্তু এঁদেরই তৈরি করা আন্দোলনে এই মুহূর্তে প্রকম্পিত হচ্ছে কলকাতা। 
‘চলো হে বন্ধুগণ! এতদিনে গুরুর ঋণ পরিশোধ করার সময় এসেছে,’ হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলেন রামগোপাল। 
....
কয়েক মুহূর্ত পরেই চোরবাগানের নিস্তব্ধ নির্জন রাস্তা মুখর হয়ে উঠল এই যুবকদের সমবেত পায়ের শব্দে। যাঁদের বাঙালিরা সম্প্রতি চিনেছে ‘ইয়ং বেঙ্গল’ নামে। আর এই মুহূর্তে তাঁরা যে গুরুর বাড়ির দিকে ছুটে চলেছেন, তাঁর নাম শুনলেও রক্ষণশীল অভিভাবকদের মুখ শুকিয়ে যায়। 
শীর্ণকায় দীর্ঘদেহী সেই তরুণ এই যুবকদের চেয়ে মাত্র কয়েক বছরের বড়ো। বয়স মোটে তেইশ। 
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। এক কালবৈশাখী যেন! 
কয়েকদিন হল বাপের অত্যাচারে বাড়ি ছেড়ে ডিরোজিওর বাড়ির কাছেই একটি বাড়ি ভাড়া করে রয়েছেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়। সার্কুলার রোডের উপর অবস্থিত সেই বাড়িটার সামনে এসে থমকে দাঁড়াল যুবকদের দলটি। কৃষ্ণমোহন বললেন, ‘একটু দাঁড়াও তোমরা। আমাদের আরও লোক চাই। সকলকে খবর দিতে হবে। রসিক, তুমি মহেশকে নিয়ে বেরিয়ে পড়। বাকিদের খবর দিয়ে একেবারে স্যারের বাড়িতে নিয়ে চলে এসো।’ 
কৃষ্ণমোহনের কথা সাধারণত এঁরা সকলেই মেনে চলেন। ঠান্ডা মাথার বুদ্ধিমান তরুণ তিনি। রসিককৃষ্ণ আর মহেশচন্দ্র ঢুকে গেলেন ডানদিকের রাস্তাটিতে। ঝামাপুকুরের দিকেই ইয়ং বেঙ্গল দলের বেশিরভাগ ছেলের বাড়ি।
ডিরোজিওর বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালেন কৃষ্ণমোহন আর রামগোপাল। বাইরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন দক্ষিণারঞ্জন। তাঁর চোখ ব্যস্ত হয়ে রাস্তার গাড়িগুলোকে তল্লাশি করছে যেন।
‘কারও জন্য অপেক্ষা করছ?’ 
একটু চমকে উঠে দক্ষিণারঞ্জন প্রথমে বললেন, ‘ওহ, তোমরা? আমি ভাবলাম... রাস্তায় কোনো গাড়ি দেখতে পেলে?’ 
এখনও রাত খুব বেশি হয়নি। সার্কুলার রোড দিয়ে বহু গাড়ি যাতায়াত করছে, ক্রমাগত শোনা যাচ্ছে ঘোড়ার ক্ষুর আর গাড়ির চাকার শব্দ। এখন এই প্রশ্নটির মানে বোঝা সম্ভব নয়। 
সেটা অবশ্য তৎক্ষণাৎ দক্ষিণারঞ্জন বুঝতে পারলেন। তাড়াতাড়ি আবার বললেন, ‘উত্তেজনায় ভুলভাল বলছি। আসলে কিছুতেই একজন ডাক্তার খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শেষে মনে পড়ল উইলসন সাহেবের কথা। তাঁর কাছে লোক পাঠিয়েছি, সেও বেশ কিছুক্ষণ আগে। এতক্ষণে তো... ওই বুঝি এলেন।’
সত্যিই ঠিক এই সময় ঘড়ঘড় শব্দ তুলে বাড়ির উঠোনে প্রবেশ করল হোরেস হেম্যান উইলসনের ব্রুহ্যাম গাড়িটা। দক্ষিণার আগেই রসিক এগিয়ে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিলেন। 
উইলসন নেমে এসে প্রথমেই বললেন, ‘ওহ, তোমরা এসে পড়েছ? তাহলে আর চিন্তা নেই। এমন সব শিষ্য থাকতে যমের সাধ্য হবে না গুরুকে টেনে নিয়ে যাওয়ার।’ 
উইলসন ইংরেজ হলেও সংস্কৃত শাস্ত্র ও ভাষায় তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্য রয়েছে। তাঁর মুখে হিন্দুদের মৃত্যুর দেবতার উল্লেখ তাই আদৌ বেমানান বলে মনে হয় না। বরং কথাটা শুনে দক্ষিণার অন্ধকার মুখে যেন আলোর রেখা ফুটে উঠল। 
‘আসুন ডক্টর উইলসন। এইদিকে।’ বলে পথ দেখালেন দক্ষিণা। এর অবশ্য সত্যিই কোনো প্রয়োজন নেই। উইলসন অজস্রবার এই বাড়িতে এসেছেন। 
শেষবার তাঁকে আসতে হয়েছিল মাত্র কয়েক মাস আগে, এক অত্যন্ত অপ্রিয় দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে। ডিরোজিওকে এই কথাটা জানাতে— হিন্দু কলেজ কর্তৃপক্ষ চাইছেন না, ডিরোজিও আর সেখানে শিক্ষকতা করুন। তিনটি অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে— তিনি ছাত্রদের নাস্তিকতার পাঠ দিচ্ছেন, পিতা-মাতাকে অসম্মান করতে শেখাচ্ছেন এবং এই মত প্রচার করছেন, ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে হওয়া অসঙ্গত কিছু নয়। 
ডিরোজিও হিন্দু কলেজের শিক্ষকতা থেকে প্রথমেই সদর্পে পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু পরে একটি চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, এর একটি অভিযোগও সত্যি নয়। এ কথা সত্যি— অন্ধ ধর্মবিশ্বাসকে তিনি প্রশ্ন করতে বলেছেন ছাত্রদের। তাই বলে অভিভাবকদের অসম্মান করতে তিনি কখনোই শেখাননি। আর ভাই-বোনের মধ্যে বিয়ে হওয়ার মতো উদ্ভট মত তিনি প্রকাশ করতে যাবেনই বা কেন? 
আজ আবার এক অপ্রিয় কাজ নিয়ে এই বাড়িতে আসতে হয়েছে উইলসনকে। আর সেই কাজটা যে খুব সহজ হতে যাচ্ছে না, তা রোগীকে দেখার পর তাঁর মুখচোখ দেখেই বোঝা গেল। ডিরোজিওর নাড়িতে আঙুল চেপে ধরার কিছুক্ষণের মধ্যেই উইলসনের স্বাভাবিক হাস্যোজ্জল মুখটি যেন নিমেষে অন্ধকার হয়ে গেল। 
‘কেমন দেখছেন, ডক্টর? স্যার ঠিক আছেন তো?’ উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করলেন দক্ষিণারঞ্জন। 
উইলসন কিছু বলার আগেই বিছানা থেকে শোনা গেল ডিরোজিওর অসম্ভব দুর্বল কণ্ঠস্বর, ‘এ কথা কি চিকিৎসকের পরিবর্তে রোগীকেই জিজ্ঞেস করা উচিত নয়? আমি কেমন আছি, সে কথা উনি জানবেন কী করে?’ 
একদৃষ্টে ডিরোজিওর মুখের দিকে তাকিয়েছিলেন উইলসন। ইতিমধ্যেই সেই মুখে মৃত্যুর ছায়া পড়েছে। তাঁর মতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের চোখ সেই ছায়াকে চিনে নিতে ভুল করেনি। 
সেই হতাশাকে ঢাকা দিতেই দ্রুত মুখে হাসি টেনে আনলেন তিনি। রসিকতার ভঙ্গিতে বললেন, ‘তাহলে নিজের চিকিৎসা তুমি নিজেই করবে বলে ঠিক করলে হেনরি? আমার পসার তো একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে হে!’ 
‘সেক্ষেত্রে কালিদাসের বাকি কাব্যগুলো ইংরেজিতে অনুবাদ করে ফেলুন ডক্টর উইলসন। মেঘদূতের অনুবাদের পর বহু বছর কেটে গিয়েছে। দ্য ক্লাউড মেসেঞ্জার ইজ ওল্ড নাউ।’ 
হাসতে হাসতেই ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন উইলসন। একফালি জমির ওপাশে সার্কুলার রোড। আর সেই অন্ধকার উঠোনটায় একে একে জড়ো হচ্ছেন কয়েকজন তরুণ। তাদের বয়স পনেরো থেকে কুড়ির মধ্যে। 
আজ থেকে চব্বিশ বছর আগে ভারতবর্ষে এসে পৌঁছেছিলেন উইলসন। তখনো আজকের এই মুমূর্ষু রোগীটির জন্ম হয়নি। অনেক দেখেছেন তিনি। এক মহান সভ্যতার জন্মভূমিকে দেখেছেন। দেখেছেন সেই আঁতুড়ঘরে জমে থাকা অন্ধকার। 
কিন্তু তেইশ বছর বয়সেই মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা এই যুবকের মতো গুরু তিনি কোথাও দেখেননি। ডিরোজিও। হিন্দু কলেজের ছাত্রদের যিনি প্রথম বলেছিলেন, ‘প্রশ্ন কর। যেকোনো অন্ধ বিশ্বাসকে প্রশ্ন কর। উত্তর খুঁজে বের কর। তারপর সৎভাবে সেই উত্তরের পথে চল। কোনো মত বিনা প্রশ্নে মেনে নিও না। আমি বললেও না।’ 
ছাত্ররা তাঁকে ভালোবেসেছিলেন। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে, সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে, অত্যাচারী অভিভাবকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ভালোবেসেছিলেন তাঁদের গুরুকে। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, জন্মজন্মান্তর ধরে শুনে আসা আপ্তবাক্যকেও প্রশ্ন করা চলে। 
উইলসন দেখতে পেলেন, গুরুগৃহের বাইরে ধীরে ধীরে জড়ো হচ্ছেন শিষ্যরা। তাঁদের মুখে প্রতিজ্ঞা। তরুণ গুরুকে তাঁরা মৃত্যুর মুখে ছেড়ে দিতে রাজি নন। দক্ষিণারঞ্জন, রামগোপাল, কৃষ্ণমোহন, রসিককৃষ্ণ, রামতনু, হরচন্দ্র...। 
উইলসন জানেন, প্রাণপণে সেবা করেও এঁরা এ যাত্রায় হেরে যাবেন। খুব বেশি হলে আর দিন চারেকের আয়ু অবশিষ্ট আছে ডিরোজিওর জীবনে। এই রোগের তেমন কোনো চিকিৎসা নেই। 
কিন্তু তাঁর শিষ্যরা হেরে যাবেন না। একদিন তাঁরাই গড়ে তুলবেন এক নতুন ভারতবর্ষ। মুক্ত চিন্তার, মুক্ত শিক্ষার ভারতবর্ষ। যেখানেই যাবে এঁরা, গড়ে তুলবেন বিদ্যালয়, লাইব্রেরি। পত্রিকা বের করবেন, মেপে ফেলবেন এভারেস্টের উচ্চতা।
আর শিষ্যের জয়ই তো গুরুরই জয়! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ