নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অতি ছোটো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি দেশের কর্মসংস্থানের অন্যতম হাতিয়ার। আর সেই ছোটো ব্যবসায় সংকট তৈরি করছে জিএসটির প্রশাসনিক জটিলতা। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পরোক্ষ কর ব্যবস্থা অসংগঠিত ক্ষেত্রের ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলির উপর কর সংক্রান্ত প্রশাসনিক বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। এই সমীক্ষা সামনে এনেছে খোদ কেন্দ্রীয় সরকারই। তাদের পরিসংখ্যান মন্ত্রকের আওতাধীন ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিস অসংগঠিত ক্ষেত্রের উদ্যোগগুলির বার্ষিক সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এই সংস্থাগুলির কর মেটানোর খরচ বার্ষিক বিক্রিবাটার ৩.২৮ থেকে ১৩.৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা দরকার, জিএসটি বাবদ কর মেটানোর খরচ এটা নয়। জিএসটির হিসাব রাখতে ও মেটাতে কর্মী, সফ্টওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও অন্যান্য যে খরচগুলি হয়, সেগুলিই এখানে ধরা হয়েছে। প্রসঙ্গত, অসংগঠিত ক্ষেত্রের উদ্যোগগুলি সাধারণত ছোটো এবং মালিক পরিচালিত হয়। এগুলি মূলত প্রোপ্রাইটরশিপ বা পার্টনারশিপ ব্যবসা।
পণ্য ও পরিষেবা করের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল, যদি কোনো সংস্থার জিএসটি রেজিস্ট্রেশন থাকে, তাহলে তারা কাঁচামাল কেনা ও বিক্রির ক্ষেত্রে বড়ো সংস্থাগুলির সঙ্গে কাজ করতে পারে। ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট দাবি করার সুবিধা পায় তারা। অথচ রিপোর্ট বলছে, এদের সিংহভাগই জিএসটির আওতায় আসতে অনিচ্ছুক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিএসটির মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের পরোক্ষ কর ব্যবস্থাকে সহজ করা। কিন্তু তা যে আদৌ হয়নি, তেমনটাই বলছেন তাঁরা। তাঁদের কথায়, করদাতাদের বারবার রিটার্ন দাখিল করতে হয়। নিয়মিতভাবে সিস্টেম-জেনারেটেড স্টেটমেন্টের সঙ্গে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের হিসাব মেলাতে হয়। ই-ওয়ে বিল এবং ই-ইনভয়েসিং তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি সবরকমের হিসাবের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হয়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যে সংস্থাগুলির বার্ষিক ব্যবসা ৪.৯ লক্ষ টাকার কম, তাদের জিএসটি সংক্রান্ত প্রশাসনিক খরচ ৪.৯ লক্ষ বা তার বেশি টাকার ব্যবসার তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনা ছোটো ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বড়ো ব্যবসার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। দেশের আর্থিক সমীক্ষাও জানাচ্ছে, কর মেটানোর খরচ প্রায়শই ব্যবসাগুলিকে কর ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত করে। সামনেই জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক। কাউন্সিলের তরফে জানানো হয়েছে, এবারের বৈঠকে প্রক্রিয়াগত সংস্কারে জোর দেওয়া হবে। অর্থাৎ জিএসটি মেটানো সংক্রান্ত জটিলতা সরল করা হবে। সেখানে এই সমস্যার সমাধান কতটা হবে, সেটাই দেখার।