হুগলির বলাগড়ে ৫৩৯ কোটির মিনি-বন্দর প্রকল্পের ভূমিপুজো, স্বপ্নপূরণের বার্তা লকেটদের
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ইতিহাসের পাতায় হুগলির সপ্তগ্রাম সাবেক বন্দর শহর।  সেই হুগলিতেই আধুনিক মিনি-বন্দর গড়ার শিলান্যাস করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার বলাগড়ের গঙ্গাপাড়ে সেই বন্দরনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ার পথে আরও একধাপ অগ্রসর হল।  বন্দরকর্তা, জেলা প্রশাসন, রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, হুগলির প্রাক্তন সাংসদের উপস্থিতি বন্দরের প্রয়োজনীয় সেতু ও রাস্তা নির্মাণের ভূমিপুজো হয়েছে। অসম লিঙ্করোডের বারুইপাড়াতে এদিন সেই অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যাপক জনসমাগম হয়। প্রসঙ্গত, এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ৫৩৯ কোটি টাকার ওই প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ’রা। কলকাতা বন্দরের উপরে চাপ কমাতেই বলাগড়ে মিনিবন্দর গড়ার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।এদিন বন্দরপ্রকল্পের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠান সেরে রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তথা বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার বলেন, আমাদের সরকার স্বপ্ন দেখানোর নয়, স্বপ্নপূরণের সরকার। প্রধানমন্ত্রী আগেই সিঙ্গুর থেকে প্রকল্পের শিলান্যাস করে গিয়েছিলেন। আমরা এদিন ভূমিপুজো করে আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম। নাগরিকদের স্বপ্নকে আমরা হতাশায় মিলিয়ে যেতে দেব না। আগামী দু’বছররের মধ্যে বন্দর তৈরি হয়ে যাবে। কর্মসংস্থানের নতুন দিশা পাবে বলাগড়, হুগলি। হুগলির প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি’র রাজ্যনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এদিন ভূমিপুজোতে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, নতুন সরকারের বয়স এখনও ছ’মাস হয়নি। তারমধ্যেই বলাগড়ের ৫৩৯ কোটির বন্দরপ্রকল্পের ভূমিপুজো হয়ে গেল। ডবল-ইঞ্জিন সরকারের প্রতিটি সুবিধা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই হবে। আর সেটাই আমরা প্রতিদিন করছি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মিনি-বন্দরপ্রকল্পের জন্য একটি সেতু ও সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। সেই কাজেরই এদিন ভূমিপুজো করা হয়েছে। প্রকল্পের হিসেবে মতো রাস্তা ও সেতু মিলিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার জায়গাজুড়ে কাজ হবে। হুগলির বলাগড়ের শ্রীপুর এলাকায় ১৯৯৬ সাল নাগাদ জমি কিনেছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেখানেই নতুন মিনি-বন্দর নির্মাণ হবে। প্রশাসনের দাবি, তাতে কর্মসংস্থান, অনুসারি শিল্প যেমন হবে, তেমনই এলাকার ভৌগলিক অবস্থানও উন্নত হবে। দু’বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও ভূমিপুজোতে অংশ নিয়েছিলেন। গত জানুয়ারি মাসে সিঙ্গুরে শিল্প নিয়ে বার্তা দিতে এসেছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তখনই তিনি প্রস্তাবিত বন্দর প্রকল্পের শিলান্যাস করে যান। বিধানসভা ভোট পর্বে বন্দর ও বলাগড়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সাবেক ভিটেতে সংগ্রহশালা ঘিরে প্রচারের সুর সেধেছিল বিজেপি। সংগ্রহশালা নিয়ে পদক্ষেপ হয়েছে। এবার ভূমিপুজোর মাধ্যমে বন্দরপ্রকল্প বাস্তবায়নের দিশাও দিয়ে দিল ডবল-ইঞ্জিন সরকার।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement