সংবাদদাতা, বসিরহাট: প্রতিমা নিরঞ্জনের পর নদী থেকে কাঠামো তোলা নিয়ে বসিরহাট মহকুমার গ্রামীণ এলাকায় চরম অব্যবস্থা দেখা দিয়েছে। দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবেশ প্রেমীদের একাংশ। এই মহকুমার তিনটি পুরসভা বাদুড়িয়া, টাকি ও বসিরহাটে নদী থেকে প্রতিমার কাঠামো তোলার উদ্যোগ নিতে দেখা গেলেও মহকুমার প্রান্তিক এলাকা যেমন বাদুড়িয়ার নয়াবস্তিয়া মিলনী, রামচন্দ্রপুর উদয়, বাজিতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, আঠুরিয়ায় ইছামতীতে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হলেও জল থেকে কাঠামো তোলার কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। একই অবস্থা হিঙ্গলগঞ্জ ও সন্দেশখালি ব্লকের একাধিক জায়গায়। বিসর্জনের পর প্রতিমার সঙ্গে থাকা বিভিন্ন অপচনশীল দ্রব্য, লোহার পেরেক, প্লাস্টিক, রাসায়নিক রং সহ একাধিক জিনিস নদীতে মিশে যাওয়ায় বিপন্ন হচ্ছে জলজজীবন, যা নিয়ে চিন্তিত পরিবেশ প্রেমীদের একাংশ।
একই অবস্থা মহকুমার হাড়োয়া এলাকার বিদ্যাধরী নদীতে। সেখানে বরুণহাট, হাসনাবাদ, আম্লানি গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফেও কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিমা নিরঞ্জনের পর নদীতে ভাসছে নানা রকম রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও কাঠামোর বিভিন্ন অংশ। স্বরূপনগর ব্লকের যমুনা নদী দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয়নি। ফলে ফি বছর বর্ষায় প্লাবিত হয় নদীর দু’পাড়ের মানুষ। এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত প্রধানকে ফোন করা হলেও তাঁরা প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।
সমুদ্র বিজ্ঞানের গবেষক আকাশ হাসান ইকবাল বলেন, এই মহকুমার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি নদী হল ইছামতী, বিদ্যাধরী ও যমুনা। তিনটি নদীই মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। এরমধ্যে ইছামতী আন্তর্জাতিক সীমানা নির্ধারক। বিসর্জনের সময় বিভিন্ন অপচনশীল সামগ্রী, বিশেষ করে লোহার টুকরো ও প্লাস্টিক নদীতে গিয়ে পড়ছে। এই কেমিকেল ও প্লাস্টিকের টুকরোর কারণে সামুদ্রের ভারসাম্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বহু সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। আগামী দিনে প্রশাসনকেও মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে। সন্দেশখালির বিধায়ক সনৎ সর্দার বলেন, বিষয়টি শুনলাম, দ্রুত পঞ্চায়েতগুলির সঙ্গে কথা বলে নদী থেকে কাঠামো তোলার ব্যবস্থা করব।



