


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: গ্রিন বাজিও রক্ষা করতে পারল না। দূষণের চোটে বাতাসের গুণগতমান পৌঁছে গেল চরম সীমায়। মুর্শিদাবাদের সদর শহর বহরমপুরে কালীপুজোর রাতে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স সর্বোচ্চ ২১২ সূচকে পৌঁছয়। যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক বলে দাবি চিকিৎসকের। আদালতের নির্দেশে বাজি পোড়ানোর সময়সীমা রাত্রি আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া হলেও মানুষ সেই নিয়ম মানল না। দশটার পরেও দেদার পোড়ানো হল আতশবাজি। সেই সঙ্গে ফাটল শব্দবাজিও। পরিসংখ্যান বলছে, সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে আটটা পর্যন্ত বাতাসের গুণগতমানের সূচক ছিল প্রায় ১৮১। রাত দুটোর সময়ে ইনডেক্স ছিল ১৯০। বাজি পোড়ানোর জেরে ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে বাতাসের সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ। যা অত্যন্ত উদ্বেগের বলেই দাবি করছেন পরিবেশবিদরা। ভোর চারটে নাগাদ সর্বোচ্চ খারাপ অর্থাৎ ২১২ সূচকে পৌঁছে যায় বাতাসের মান। এক ঘণ্টা পর থেকে ধীরে ধীরে সূচক নামতে থান। ভোর পাঁচটার দিকে সূচক ছিল ২০৩। সকাল ছটায় সূচক ছিল ১৮৯। তারপর বেলা বাড়তেই ফের বাতাসের মান ওঠানামা করতে থাকে। মঙ্গলবার দুপুরে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ১৬০-১৭০ সূচকের কাছাকাছি।
গ্রিন বাজির মোড়কে জেলার সর্বত্র অবৈধ বাজি বিক্রি হল। গভীর রাত অবধি সেই বাজি পুড়িয়ে বাতাসে দূষণ মাত্রা ছাড়াল। সেই সঙ্গে বহরমপুর, কান্দি, লালবাগ, মুর্শিদাবাদ, জিয়াগঞ্জ, সাগরপাড়া, জলঙ্গি, ডোমকল, রঘুনাথগঞ্জ, নবগ্রাম, খড়গ্রাম সর্বত্রই দেদার ফাটল শব্দবাজি। জেলাজুড়ে প্রচুর অবৈধ বাজি মজুত ও বিক্রি করা হলেও সেভাবে পুলিশি অভিযান নজরে আসেনি। কিছু কিছু থানা এলাকায় যৎসামান্য বাজি উদ্ধার করা হয়। যার ফলে কালীপুজোর রাতে এই দূষণ মাত্রা ছাড়িয়েছে বলেই অভিযোগ পরিবেশবিদদের। তাঁদের দাবি, অন্যান্য বার যেভাবে পুলিস ও প্রশাসন অবৈধ বাজির বিরুদ্ধে অভিযানে নামে, এবার সেই তৎপরতা দেখা যায়নি। যে কারণে সবুজ রঙের প্যাকেটের আড়ালে অনেকেই গ্রিন বাজি বলে দূষণ সৃষ্টিকারী অবৈধ বাজি বিক্রি করেছে। যে কারণে বাতাসের গুণগত মান হঠাৎ করেই এতটা খারাপ হয়।
পরিবেশ প্রযুক্তিবিদ সৌমেন্দ্রমোহন ঘোষ বলেন, কালীপুজোর রাতে বহরমপুরের বাতাস অত্যন্ত দূষিত হয়ে যায়। ভোর চারটের সময় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ২১২। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে দূষণ বেড়েছে। আদালত বাজি পোড়ানোর জন্য রাত আটটা থেকে দশটা যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, তা একেবারেই মানা হয়নি। সে কারণেই গভীর রাতে ও ভোর রাতে দূষণ এই মাত্রা ছাড়িয়েছে। এই সময়ে খোলা বাতাসে শ্বাস নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। তবে ধীরে ধীরে বাতাস পরিস্রুত হতে থাকে। মঙ্গলবার দুপুরে বহরমপুরে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ১৪৫ নজরে এসেছে।
পরিবেশ বিজ্ঞানী স্বাতী চক্রবর্তী বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে বহরমপুরে ১৮৮ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল। তবে কালীপুজোর রাতে এই ইনডেক্স মাত্রা ছাড়ায়। সাধারণত এই দূষিত বাতাসে বাড়ির বাইরে বেরলে বয়স্ক এবং শিশুদের একাধিক সমস্যা হতে পারে। বাজি পোড়ানোর জন্যই এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার ছিল।
চিকিৎসকরাও বায়ুর দূষিত মান দেখে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। তাঁরা বলেন, বায়ু দূষণের ফলে শ্বাসনালির সংক্রমণ, হৃদরোগ, ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি, স্ট্রোক এবং ফুসফুসের ক্যান্সার সহ দূষণজনিত বেশ কয়েকটি রোগ তৈরি করতে পারে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ১২০-এর উপরে উঠে গেলেই মাস্ক ব্যবহার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। একিউআই ২০০ ছাড়ালে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরনোই ভালো।