নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে আগামী বুধবার বিজেপি বিরোধী মহাজোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি আলাদাভাবে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে আলোচনাও করবেন। সেই সাক্ষাতে রাহুল গান্ধীও উপস্থিত থাকুন, চান তৃণমূলনেত্রী। সেই মতো কংগ্রেস এবং তৃণমূল দুই দলের ‘ম্যানেজারা’ নিজেদের মধ্যে আরো সমন্বয় বাড়াচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটে গোহারা হেরে কংগ্রেস সম্পর্কে ‘অ্যালার্জি’ আপাতত দূরে সরিয়ে রাখতে চান তৃণমূলনেত্রী। কারণ, তাঁর দল দুর্বল হয়েছে। তাই কংগ্রেস তো বটেই, সিপিএমের সঙ্গেও হাত মেলাতে কোনো সমস্যা নেই মমতার। তাই কংগ্রেস যেভাবে কেরলে সিপিএমের সঙ্গে লড়াই করার পরেও বিজেপি বিরোধী ইস্যুতে হাত ধরাধরির কৌশলী রাজনীতি করতে পারে, সেই পথেই এগতে চায় তৃণমূল।
এসআইআরের মাধ্যমে ভোট চুরির প্রতিবাদে বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট গত ৮ জুন নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে একজোট হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে হারার পর সেবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মমতা। পরের দিন ৯ জুন সাক্ষাৎ করেছিলেন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে। দুই কমিশনারকে অগ্রাহ্য করে নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দেশজুড়ে সমালোচনার কাঠগড়ায়। সেই সুযোগ ফের কাজে লাগাতে সক্রিয় বিজেপি বিরোধী জোট। সেই মতোই বুধবার ফের একজোট হচ্ছেন তারা। এর আগে জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যূত করতে লোকসভা-রাজ্যসভায় স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে ফের নোটিস দেওয়ার প্রশ্নে গোড়ায় তৃণমূলের তেমন সায় ছিল না। পরে রাজি হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, গত ২৪ এপ্রিল জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যূত করতে চেয়ে রাজ্যসভায় বিরোধীরা যে নোটিস দিয়েছিল, সেটি এখনো তাজা। কারণ, এখনো সংসদের বাদল অধিবেশন ‘প্রোরোগড’ হয়নি। অর্থাৎ টেকনিক্যালি অধিবেশন এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু আচমকা দুই কমিশনারের সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমারের মতভেদের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টিতে প্রতিবাদের পারদ চড়াতে চাইছে কংগ্রেস। তাই এবার রাজ্যসভা হোক বা লোকসভা, সোনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যূত করার বিরোধী নোটিসে সই করতে চান। যা গতবার করেননি। তৃণমূলের এক সাংসদের মন্তব্য, ‘তখন কেন সই করেননি? এখন যেই জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুটি বড় আকার নিচ্ছে, তাই আগের নোটিস তাজা থাকলেও সোনিয়া, খাড়্গেরা সই করতে চাইছেন বলে ফের নোটিস দিতে হচ্ছে।’ বোঝাই যাচ্ছে কংগ্রেসের অনেক কিছু অপছন্দ হলেও মানতে হচ্ছে।