


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: এসবিএসটিসি বাস পরিষেবায় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে লোকবল। তার জেরেই কার্যত টানা পাঁচমাস ধরে পুরুলিয়া ও ঝালদা রুটের বাস পরিষেবা পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, পুরুলিয়ার সঙ্গে বান্দোয়ানের যোগাযোগ ব্যবস্থাও একপ্রকার অনিয়মিত হয়ে উঠেছে। ঘটনায় নিত্যযাত্রীদের একাংশ কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের ঢিলেঢালা মনোভাবের জেরে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এবিষয়ে এসবিএসটিসির পুরুলিয়া ডিপো কর্তৃপক্ষ অবশ্য লোকবল ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে।
পুরুলিয়া ডিপোর ইনচার্জ সুবীর দে বলেন, এই মুহূর্তে চালক ও কন্ডাকটরের সংখ্যা তুলনামূলক কম রয়েছে। ফলত বেশকিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে, পুরুলিয়া ও ঝালদা রুটে বাস পরিষেবা বন্ধ হওয়ার নেপথ্যে আরও একটি কারণ হল আর্থিক ক্ষতি। দীর্ঘদিন ক্ষতি স্বীকার করেও বাস পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি সহ লোকবলের অভাবে ওই বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে, পুরুলিয়া ও বান্দোয়ানের বাস পরিষেবা দ্রুত নিয়মিত করার ক্ষেত্রে আমাদের তরফে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
পর্যটন কেন্দ্রীক জঙ্গলমহল পুরুলিয়া জেলার আভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে বিভিন্ন সময় একাধিক রুটে সরকারিভাবে বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। যদিও সব রুটের বাস পরিষেবা অবশ্য এই মুহূর্তে স্বাভাবিক নেই। কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গিয়েছে, জেলার সদর শহরের সঙ্গে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র অযোধ্যার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র বাস পরিষেবা প্রায় বছর তিনেক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেইসঙ্গে পুরুলিয়া থেকে সাঁওতালডিহি রুটের বাস পরিষেবাও বহু আগেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। যদিও ওইসব রুটের বাস চলাচল কেন থমকে গিয়েছিল, তা অবশ্য কর্তৃপক্ষের কাছেও খুব একটা স্পষ্ট নয়। এরই মাঝে এবার নতুন করে আরও একটি রুটের বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেল। কর্তৃপক্ষের দাবি, বাস পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে প্রতি কিলোমিটারে নূন্যতম ৩০টাকা উপার্জন প্রয়োজন। যদিও বেশকিছু সময় ধরে পুরুলিয়া-ঝালদা রুটে গড়ে ১৫টাকা উপার্জন হচ্ছিল। তার জেরে কর্তৃপক্ষকে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। সেইসঙ্গে লোকবলের অভাব। এই দুইয়ের জেরেই ওই বাস পরিষেবা পুরোপুরিভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। অন্যদিকে, জেলার সদর শহর থেকে বান্দোয়ানের যোগাযোগ রক্ষায় চলাচলকারী একমাত্র বাস পরিষেবাও এই মুহূর্তে অনিয়মিত। অভিযোগ, চলতি সপ্তাহের গত মঙ্গলবারই ওই বাসের চাকা গড়ায়নি।
বান্দোয়ানের বাসিন্দা রুদ্র নাগ বলেন, ওই বাসটি আমাদের এলাকার সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা। ওই বাসের ভরসায় অনেকেরই রুটিরুজি সহ চিকিৎসা পরিষেবার বিষয়ও জুড়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বাস পরিষেবা অনিয়মিত হওয়ায় আমাদের যথেষ্টই সমস্যায় পড়তে হয়। ঝালদার বাসিন্দা সূরজ সিংহ বলেন, বিভিন্ন সময় নানান প্রশাসনিক কাজে আমাদের জেলার সদর শহরে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে ওই সরকারি বাসের উপর ঝালদার বাসিন্দারা ভরসা রাখতেন। তবে, আচমকাই কেন ওই বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হল, তা বুঝতে পারছি না। কর্তৃপক্ষের এহেন হটকারি সিদ্ধান্তের জেরে আমাদের যথেষ্টই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।