


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পর্যটকদের জন্য সুখবর। এ মাসেই খুলে যাচ্ছে গজলডোবা ব্যারেজের সেতুর রাস্তা। সংস্কারের জন্য গত ২৭ এপ্রিল থেকে ওই রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কাজ প্রায় শেষ। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই ব্যারেজের রাস্তা খুলে দেওয়া হবে বলে বুধবার জানিয়েছেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শমা পারভীন।
গজলডোবা ব্যারেজের রাস্তা খুলে গেলে শিলিগুড়ি থেকে ডুয়ার্সে আর ঘুরপথে যাতায়াত করতে হবে না পর্যটকদের। লাটাগুড়ি ঘুরে যাঁরা পাহাড়ে বিশেষ করে চুইখিম, লাভা, ঝান্ডির মতো পর্যটনকেন্দ্রে যেতে চান, ব্যারেজের রাস্তা খুলে গেলে পথের দূরত্ব কমে যাবে তাঁদের ক্ষেত্রেও। একইসঙ্গে ‘ভোরের আলো’য় পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। গজলডোবা ব্যারেজের রাস্তাটি বন্ধ থাকায় শিলিগুড়ি থেকে লাটাগুড়ি আসতে পর্যটকদের এখন সেভক হয়ে ঘুরে আসতে হচ্ছে। নতুবা জলপাইগুড়ি, দোমোহনি হয়ে যেতে হচ্ছে। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনই অনেক বেশি গাড়ি ভাড়া গুণতে হচ্ছে পর্যটকদের। একইসঙ্গে সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরাও। শুধু তাই নয়, গজলডোবা ব্যারেজের রাস্তা বন্ধের জেরে ‘ভোরের আলো’ কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেখানকার বেশিরভাগ দোকানপাট। তিস্তা ক্যানালে নৌকাবিহারের চাহিদা না থাকায় পেটে টান পড়েছে মাঝিদের। ফলে দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ করে যাতে ব্যারেজের রাস্তা খুলে দেওয়া হয়, সেব্যাপারে বারবার দাবি জানাচ্ছিলেন গজলডোবার পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
এদিন জেলাশাসক বলেন, গজলডোবা ব্যারেজের রাস্তার কাজ ৯৯ শতাংশ শেষ। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই ওই রাস্তা আমরা খুলে দিতে পারব বলে আশাবাদী। তিনি বলেন, সংস্কারের কাজের জন্য রাস্তাটি বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে পুজোর আগে রাস্তাটি ফের খুলে গেলে শিলিগুড়ি থেকে ডুয়ার্সে যাতায়াতের পথ অনেকটাই সুগম হবে। সেইসঙ্গে গজলডোবাতেও পর্যটক বাড়বে।
২০২৩ সালে সিকিমে হ্রদ বিপর্যয়ে পাহাড় থেকে প্রচুর পাথর ও মাটি নেমে আসে। তিস্তা সেসব বহন করে নিয়ে এসে জমা করে গজলডোবায়। এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্যারেজ। বেহাল হয়ে পড়ে ব্যারেজের রাস্তাটিও। বেশ কয়েকমাস আগে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে যান রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। এরপরই গজলডোবা ব্যারেজের সেতুর উপর রাস্তা সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ করে রাজ্য। ব্যারেজের সেতুর রাস্তা সংস্কারে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করা হচ্ছে। এছাড়াও ব্যারেজেরও কিছু কাজ হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। - নিজস্ব চিত্র।