Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথিতে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে বেপাত্তা স্বর্ণ ব্যবসায়ী

কিস্তিতে সোনা কেনার অফার দিয়ে কাঁথিতে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে হইচই পড়ে গিয়েছে।

কাঁথিতে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে বেপাত্তা স্বর্ণ ব্যবসায়ী
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কিস্তিতে সোনা কেনার অফার দিয়ে কাঁথিতে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে হইচই পড়ে গিয়েছে। সাধারণ গৃহবধূ থেকে ব্যবসায়ী, শিক্ষক সহ নানা পেশার মানুষজন সোনার দোকানে কিস্তিতে টাকা রেখে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রতারণার শিকার ওই গ্রাহকরা স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি বলে অভিযোগ। এরপর তাঁরা কাঁথি এসিজেএম আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। আদালত ওই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেইমতো শনিবার কাঁথি থানায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী মানিক কামিল্যা সহ তাঁর পরিবারের আরও তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে দোকানে তালা ঝুলিয়ে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ী বেপাত্তা। প্রতারিত লোকজনও কয়েকটি তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এনিয়ে অভিযুক্তের ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।
কাঁথি-১ ব্লকের বাদলপুর গ্রামে মানিকের সোনার দোকান আছে। স্থানীয় লোকজন বিয়েবাড়ি থেকে অন্নপ্রাশন, এনগেজমেন্ট কিংবা অনুষ্ঠান বাড়িতে গিফট দেওয়ার জন্য ওই দোকান থেকে সোনার গয়না কিনতেন। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে একটা সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সুবাদে ক্রেতাদের কিস্তিতে সোনা কেনার অফার দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। কেউ কেউ পুরনো সোনার গয়না দিয়ে নতুন গয়নার অফারও গ্রহণ করেছিলেন। নির্দিষ্ট সময় অন্তর টাকা দিলে বিশেষ ডিসকাউন্টের সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রত্যেকের সঙ্গে গোপনে এই কারবার চালাতেন বলে অভিযোগ। তারপর গয়না ডেলিভারির তারিখ এগিয়ে এলে তাঁদের দিচ্ছি দেব বলে পিছিয়ে আচমকাই গতবছর ১১সেপ্টেম্বর দোকানে তালা ঝুলিয়ে বেপাত্তা হয়ে যান। এরপর কিস্তির টাকা দেওয়ার লোকজন জানতে পারেন, এরকম অনেকেই টাকা দিয়ে ঠকেছেন। পরিকল্পিত প্রতারণা বলে তাঁদের দাবি।
কাঁথির বাদলপুর শঙ্করী বেরা ‘সম্পূর্ণা’ নামে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কোষাধ্যক্ষ। নিজের বোনের বিয়ের গয়না ওই দোকান থেকে কিনেছিলেন। মেয়ের বিয়ের আগে গয়না বানাতে ওই দোকানে কিস্তির অফারে রাজি হন। তিনি ১৩গ্রাম পুরনো সোনা এবং নগদ ২লক্ষ ৭০হাজার টাকা দিয়েছিলেন। হলমার্ক সোনার গয়না বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সব জিনিস নিয়ে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ।

Advertisement


মন্দারমণি কোস্টাল থানার অধীন রানিয়া গ্রামের ফুলেশ্বরী রাউল মণ্ডল গয়না কেনার জন্য কিস্তিতে দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। ফুলেশ্বরীর স্বামী পরিমল মণ্ডল একটি কোম্পানিতে কাজ করেন। পরিমলবাবু ৫৫হাজার টাকা দিয়েছেন। তারপর গয়না পাননি। এভাবেই বাদলপুর গ্রামের তপতী মাইতি, অনুশ্রী মাইতি, বিশ্বজিৎ পণ্ডা, পবিত্র দাস লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে গয়না পাননি। তাঁরা প্রত্যেকে প্রতারণার শিকার। আদালতের নির্দেশে কাঁথি থানায় ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও অভিযুক্ত বেপাত্তা। প্রতারিত শঙ্করী ও পরিমল বলেন, কিস্তিতে গয়নার অফারে অনেকেই সাড়া দিয়েছিলেন। এতেই ওই দোকানদার প্রায় ৯০লক্ষ টাকা প্রতারণা করে চম্পট দিয়েছেন। আমরা প্রত্যেকে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছি। সকলেই টাকা ফেরত চাইছি। অনেকের পুরনো গয়না রাখা ছিল। তারও কোনো হদিশ নেই।

সম্পর্কিত সংবাদ