


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত একবছরে রকেট গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে সোনার দর। আমেরিকার শুল্ক নীতি ও বিশ্বের টালমাটাল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি রীতিমতো ফিকে করে দিয়ে দিয়েছে সোনার দাম সংক্রান্ত যাবতীয় পূর্বাভাস। সেই দামের সঙ্গে এঁটে ওঠা রীতিমতো কঠিন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। ফলে সোনার চাহিদা কমবে, তা স্বাভাবিক। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে চলতি বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত একবছরে দেশে মোট সোনা বিক্রি হয়েছে ৭১০ টন। ২০২৪ সালে ওই একই সময়ে সোনা বিক্রি হয়েছিল ৮০৩ টন। অর্থাৎ ওজনের নিরিখে সার্বিকভাবে সোনা কম বিক্রি হয়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। কাউন্সিলের দাবি, এক্ষেত্রে বিক্রি কমেছে মূলত গয়নার।
দামবৃদ্ধির কারণে গয়না কম বিক্রি হলেও সোনার কয়েন বা মুদ্রা এবং বাট কেনার প্রবণতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। তারা জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে কয়েন ও বাট বা বিস্কুট মিলিয়ে দেশে সোনা বিক্রি হয়েছিল ২৪০ টন। গতবছর তা বেড়ে ২৮০ টনে পৌঁছেছে। সোনার ওজনের নিরিখে বৃদ্ধির হার ১৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেভাবে সোনার দাম বাড়ছে, তা আগামিদিনে আরও বাড়তে পারে, এই আশায় বিনিয়োগ হিসেবে সোনার বিক্রি বাড়ছে। গয়না ও অন্যান্য সামগ্রী হিসেবে ২০২৫ সালে দেশে যে পরিমাণ সোনা বিক্রি হয়েছে, ভারতীয় মূল্যে তার দাম প্রায় ৭ লক্ষ ৫১ হাজার কোটি টাকা। যেহেতু ২০২৪ সালের তুলনায় সোনার দাম অনেকটাই বেড়েছে, তাই ওই বছরের তুলনায় দামের নিরিখে বিক্রির হার বেড়েছে ৩০ শতাংশ। তবে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের বক্তব্য, গতবছর বিয়ের মরশুম এবং উৎসবের সময়েও গয়না সোনার চাহিদা ততটা হয়নি। তাদের বক্তব্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে গয়না সোনার চাহিদা ছিল ১৪৫ টন। ২০২৪ সালের ওই একই সময়ের নিরিখে বিক্রি কমেছে ২৩ শতাংশ। তবে কাউন্সিলের কর্তাদের আশা, চলতি ২০২৬ সালে দেশে সোনার চাহিদা ২০২৫ সালের তুলনায় খুব একটা কমবে না। তা ৭০০ টনের আশপাশে থাকতে পারে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের দাবি, দাম বাড়লেও উৎসবের মরশুমে সোনার চাহিদা বেড়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মোট বিক্রিবাটার হিসেবে তা আরও স্পষ্ট হবে। ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যন্ত এবছরে সোনার মোট চাহিদা ৭০০ টনে পৌঁছাতে পারে, আশা করছে তারা।