


রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের সব অর্থই খরচ করেছেন গোঘাটের বিদায়ী এমএলএ বিশ্বনাথ কারক। এমনকি, প্রস্তাব পাঠানো প্রকল্পের জন্য আরও প্রায় ৩০লক্ষ টাকার প্রয়োজন বলে দাবি বিশ্বনাথবাবুর। মান্দারণ পঞ্চায়েত এলাকায় একটি সেতুর জন্য অর্থ বরাদ্দ করলেও প্রশাসনিক অসহযোগিতায় তা হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। এবার নির্বাচনে দল তাঁকে প্রার্থী করেনি। তাতে অবশ্য তাঁর সাফ জবাব, কোনো আক্ষেপ নেই। দলের সঙ্গে থেকে কাজ করবেন। কিন্তু তৃণমূলের দাবি, বিধায়কের থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন পায়নি গোঘাট। এলাকায় পাঁচ বছর তাঁকে দেখা যায়নি। বিশ্বনাথবাবু অবশ্য তৃণমূলের সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।
একসময়ের বাম দুর্গ গোঘাট। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল হলেও গোঘাট ছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের দখলেই। সেই দল থেকেই নির্বাচিত হন বিশ্বনাথবাবু। তবে তার আগে ১৯৮৩সাল থেকে পঞ্চায়েতে জনপ্রতিনিধি রয়েছেন বিশ্বনাথবাবু। গত বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। টিকিট পেয়ে তৃণমূলকে হারিয়ে ফের বিধায়ক হন। এর আগে ২০১৬সালের বিধানসভা নির্বাচনে গোঘাট আসন তৃণমূল দখল করলেও ফের তা হারায়। তাই এবার নির্বাচনে জোর টক্কর শুরু হয়েছে। গোঘাটের বিজেপি বিধায়কের পারফরম্যান্স নিয়ে চর্চা চলছে।
বিশ্বনাথবাবু বলছেন, বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলে পাওয়া প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ১১৯টি হাইমাস্ট লাইট বসিয়েছি। একাধিক স্কুলে শ্রেণিকক্ষ, পাঁচিল, সাইকেল শেড করেছি। অনাথ আশ্রম, কবরস্থানের পাঁচিল হয়েছে। সাওড়া, নকুণ্ডা পঞ্চায়েতের চাষের জন্য ১২টি মিনি ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। সংখ্যালঘু বুথে সোলার আলো বসেছে। পূর্তদপ্তরের মাধ্যমে কয়েকটি রাস্তার কাজ করতে ভূমিকা নিয়েছি। আরামবাগে দ্বিতীয় সেতু, বাইপাসের জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছি। কিছু কাজের রূপায়নে তৃণমূলই বাধা দিয়েছে। প্রশাসনের অসহযোগিতায় সেতুর কাজ হয়নি। তার বিনিময়ে ওই বরাদ্দে অন্য প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছি। এখনও কিছু কাজ চলছে। মানুষকে পরিষেবাও দিয়েছি।
তৃণমূলের গোঘাট-১ ব্লক সভাপতি কাজল রায় বলছেন, বিধায়কের কাছ থেকে গোঘাট কোনো উল্লেখযোগ্য কাজ পায়নি। হাইমাস্ট লাইট পঞ্চায়েত সদস্যরাও করছেন। হাসপাতালের উন্নয়নে বিধায়ক কোনো ভূমিকা নেননি। তাছাড়া বিভিন্ন স্কলারশিপের জন্য বিধায়কের সই পাওয়া যায়নি। আমাদের কাছে কেউ এলে তারকেশ্বরে দলীয় বিধায়কের কাছে পাঠাতে হয়েছে। বিদায়ী বিধায়ক নিজের স্বার্থে দল বদল করে ক্ষমতায় থেকেছেন। কেন্দ্র থেকে কোনো বরাদ্দ আনতে পারেননি। তাই বঞ্চনার প্রতিবাদে মানুষ ফের তৃণমূলেই আস্থা রাখবেন।
সিপিএমের কৃষক সমিতির হুগলি জেলার সভাপতি গোঘাটের বাসিন্দা ভাস্কর রায় বলেন, বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে বিশ্বনাথবাবু কী কাজ করেছেন জানি না। তবে তাঁকে এলাকায় স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাওয়া গিয়েছে এমনটাও ঠিক নয়। এবার আমরা গোঘাট আসন জিতব।